মাদরাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর এসেছে। বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে যে ইবতেদায়ি ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর ফরম পূরণ শুরু হবে আগামীকাল অর্থাৎ ২২ অক্টোবর থেকে। এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমটি চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। অভিভাবক এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের উচিত এই সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে ফরম পূরণ করে জমা দেওয়া।
কখন থেকে শুরু হবে ফরম পূরণ?
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড মঙ্গলবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে আগামীকাল ২২ অক্টোবর থেকে মাদরাসার ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে। এই ফরম পূরণের সময়সীমা রাখা হয়েছে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে যে, বোর্ড ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ হচ্ছে ২৮ অক্টোবর। ফি জমা দেওয়ার পরেই কেবলমাত্র নতুন তথ্য আপলোডের এন্ট্রি অপশন পাওয়া যাবে। তাই অভিভাবকদের এই তারিখগুলো ভালোভাবে মনে রাখা জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ সমূহ
| বিষয় | তারিখ |
|---|---|
| ফরম পূরণ শুরু | ২২ অক্টোবর ২০২৫ |
| ফি জমার শেষ তারিখ | ২৮ অক্টোবর ২০২৫ |
| ফরম পূরণের শেষ তারিখ | ২৯ অক্টোবর ২০২৫ |
কোন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে?
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত বিভিন্ন ধরনের মাদরাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা, সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদরাসা, দাখিল মাদরাসার সাথে যুক্ত ইবতেদায়ি, আলিম মাদরাসার সাথে যুক্ত ইবতেদায়ি এবং ফাজিল ও কামিল মাদরাসার সাথে যুক্ত ইবতেদায়ি বিভাগে অধ্যয়নরত ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। তবে একটি বিশেষ শর্ত হলো, প্রতিটি মাদরাসা থেকে শতকরা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করতে পারবে। এর মানে হলো, যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনায় ভালো এবং মেধাবী তারাই এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
কত টাকা ফি দিতে হবে?
ইবতেদায়ি ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা দিতে হলে দুই ধরনের ফি জমা দিতে হবে। প্রথমত, প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে ৪০০ টাকা বোর্ড ফি জমা দিতে হবে যা বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুকূলে অনলাইনে জমা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে আরও ২০০ টাকা কেন্দ্র ফি জমা দিতে হবে যা সংশ্লিষ্ট মাদরাসায় জমা দিতে হবে। এই কেন্দ্র ফি মাদরাসা প্রধান সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবের অনুকূলে জমা দেবেন। সুতরাং মোট খরচ হবে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ৬০০ টাকা।
ফি বিবরণী
| ফি-এর ধরন | টাকার পরিমাণ | জমার স্থান |
|---|---|---|
| বোর্ড ফি | ৪০০ টাকা | অনলাইনে বোর্ডের অনুকূলে |
| কেন্দ্র ফি | ২০০ টাকা | সংশ্লিষ্ট মাদরাসায় |
| মোট খরচ | ৬০০ টাকা | – |
কীভাবে অনলাইনে ফরম পূরণ করবেন?
অনলাইনে ফরম পূরণ করার জন্য একটি সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে আপনাকে Google Chrome অথবা Firefox ব্রাউজার ব্যবহার করতে হবে। এরপর সরাসরি www.ebmeb.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটে গিয়ে “Ebtedaee Scholarship Entry” নামের বাটনে ক্লিক করলে প্রতিষ্ঠানের লগইন প্যানেল দেখা যাবে। এই লগইন প্যানেলে প্রতিষ্ঠানের EIIN কোড এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্যানেলে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশ করার পর “পেমেন্ট অপশন” এ ক্লিক করে শিক্ষার্থী সংখ্যা এন্ট্রি দিতে হবে এবং সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে বোর্ড ফি জমা দিতে হবে।
পাসওয়ার্ড না থাকলে কী করবেন?
যদি কোনো মাদরাসার EIIN বা পাসওয়ার্ড না থাকে কিন্তু কোড নম্বর থাকে, তাহলে চিন্তার কিছু নেই। এক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের “নতুন পাসওয়ার্ড” অপশনে ক্লিক করতে হবে। তারপর মাদরাসার কোড এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের রেজিস্ট্রিকৃত মোবাইল নম্বর এন্ট্রি দিয়ে OTP বাটনে ক্লিক করলে একটি OTP পাওয়া যাবে। এই OTP ব্যবহার করে নতুন পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করা যাবে। প্রাপ্ত পাসওয়ার্ড অবশ্যই প্রিন্ট নিয়ে নিরাপদে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে যাতে পরবর্তীতে ব্যবহার করা যায়।
ফি জমা দেওয়ার পর কী করতে হবে?
বোর্ড ফি সিস্টেমে সঠিকভাবে জমা হওয়ার পর শিক্ষার্থীর তথ্য আপলোড করার জন্য “নতুন এন্ট্রি” অপশন পাওয়া যাবে। এই অপশন ব্যবহার করে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ তথ্য সঠিকভাবে এন্ট্রি দিতে হবে। সমস্ত পরীক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর অবশ্যই এন্ট্রিকৃত তথ্যের তালিকার একটি প্রিন্ট আউট নিয়ে ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। যদি কোনো ধরনের ভুল পাওয়া যায়, তাহলে “Edit” অপশনে ক্লিক করে তথ্য সংশোধন করা সম্ভব। সবকিছু ঠিক থাকলে “ফাইনাল সাবমিট” বাটনে ক্লিক করে ফরম পূরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
তথ্য এন্ট্রিতে কী কী সতর্কতা মেনে চলতে হবে?
অনলাইনে শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি দেওয়ার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষার্থীর তথ্য লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভর্তি রেজিস্ট্রার এবং জন্ম সনদ অনুসরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীর নিজের নাম, পিতার নাম, মাতার নাম এবং জন্ম নিবন্ধন নম্বর তার জন্ম সনদে যেভাবে লেখা আছে ঠিক সেভাবেই ইনপুট দিতে হবে। এতে করে পরবর্তীতে কোনো সমস্যা হবে না এবং শিক্ষার্থীর সনদপত্রেও কোনো ভুল থাকবে না। ছোটখাটো বানান ভুল বা নামের গরমিল পরবর্তীতে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে, তাই এই বিষয়ে বিশেষ যত্নশীল হওয়া জরুরি।
কোথা থেকে আরও তথ্য পাবেন?
বৃত্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনি বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.ebmeb.gov.bd ভিজিট করতে পারেন। এছাড়াও শিক্ষা সংক্রান্ত আপডেট খবর পেতে পড়াশোনা ব্লগ ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখতে পারেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষও প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। যেকোনো সমস্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মাদরাসা প্রধান বা শিক্ষা বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
শেষ কথা
মাদরাসার ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পেয়ে তাদের পড়াশোনা আরও ভালোভাবে চালিয়ে যেতে পারবে। তাই অভিভাবকদের উচিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে ফরম পূরণ করা। ২২ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৮ অক্টোবর। তথ্য এন্ট্রির সময় জন্ম সনদ এবং ভর্তি রেজিস্ট্রার অনুযায়ী সঠিক তথ্য দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আশা করা যায় এই নির্দেশিকা অনুসরণ করে সকল মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবক সফলভাবে ফরম পূরণ সম্পন্ন করতে পারবেন।