রেডমি নোট ১৫ সিরিজ ওভারভিউ


আসসালামু আলাইকুম।

রেডমি নোট সিরিজ- মিড বাজেট আর ব্র্যান্ড হিসেবে গ্রাহকদের কাছে শাওমির গ্রহণযোগ্যতা মিলিয়ে বাংলাদেশের বাজারে সুপরিচিত ও তুমুল জনপ্রিয় এই সিরিজের ফোনগুলো। তবে সাম্প্রতিক রেডমি নোট সিরিজ সে জায়গা থেকে কিছুটা হায়ার বাজেট ক্যাটাগরীর দিকে চলে যাচ্ছে। এবছরের Redmi Note 15 সিরিজের দাম শুরু হয়েছে ২৭ হাজার টাকা থেকে। বলাই যায়, এখানে এসে মিড বাজেট সিরিজ থেকে হায়ার মিড বা হায়ার বাজেট সেগমেন্টে প্রবেশ করেছে সিরিজটি।

শাওমির জনপ্রিয়তার শুরুটা বাজেট স্মার্টফোনে মেটাল বডি আর কম্পিটিটরদের তুলনায় পাওয়ারফুল Snapdragon প্রসেসর নিয়ে এসে। কিন্তু এখন কিন্তু প্রাইস টু পারফর্মেন্স বিবেচনায় শাওমি সেই জায়গাটা থেকে সরে আসছে- বাজেট ফ্রেন্ডলি হিসেবে শুরু হওয়া রেডমি সিরিজকেও আমরা এখন প্রিমিয়াম রেঞ্জের দিকে যেতে দেখছি।

প্রাইসিং

  • রেডমি নোট ১৫ ৬/১২৮: ২৭ হাজার টাকা
  • রেডমি নোট ১৫ ৮/২৫৬: ৩০ হাজার টাকা
  • রেডমি নোট ১৫ 5G ৮/২৫৬: ৩৭ হাজার টাকা
  • রেডমি নোট ১৫ প্রো+ 5G ১২/২৫৬: ৬৩ হাজার টাকা

Redmi Note 15

রেডমি নোট ১৫ এর সামনে-পেছনে কার্ভড ডিজাইনের সাথে এসেছে। ব্লাক, গ্লেসার ব্লু ও পার্পল তিনটি কালারে। 6.77″ এর অ্যামোলেড ডিসপ্লে থাকছে ফোনটিতে। এর রেজ্যুলেশন FHD+ (2392 × 1080) এবং 120 Hz রিফ্রেশ রেট ও 240 Hz টাচ স্যাম্পলিং রেট সমর্থন করে। গেম মোডে টাচ স্যাম্পলিং রেট 2560 Hz পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। 800 nits টাইপিকাল ও 3200 nits পিক ব্রাইটনেস সমর্থিত এই ডিসপ্লেটি 12 bit কালার ডেপথ সমর্থন করে- অর্থাৎ 68 বিলিয়ন কালার প্রডিউস করতে সক্ষম।

রেডমি নোট ১৫ – পার্পল

৬/১২৮ ও ৮/২৫৬ দুটো ভ্যারিয়েন্টে এসেছে রেডমি নোট ১৫। চিপসেট হিসেবে থাকছে Mediatek Helio G100 Ultra। এটা একটা চিহ্ন যে পারফর্মেন্সের বেলায় আগের মত এগ্রেসিভ কিছু দেয়ার চেষ্টা রেডমি একদমই করছে না। ফোনটির র‌্যাম ও স্টোরেজ টাইপ যথাক্রমে LPDDR4X ও UFS2.2।

রেডমি নোট ১৫ – ব্লাক

ফোনটির রেয়ার ক্যামেরা 108 MP f/1.7 অ্যাপার্চারের লেন্স, সাথে আছে 2 MP এর ডেপথ সেন্সর। কোন আল্ট্রাওয়াইড বা টেলিফটো ক্যামেরা থাকছে না। মেইন ক্যামেরা সর্বোচ্চ 1080p 60fps রেকর্ড করতে পারে। অন্যদিকে সামনের 20 MP ক্যামেরা 1080p 30fps পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

6000 mAh ব্যাটারীর সাথে 33 W এর টার্বো চার্জিং সমর্থন থাকছে। আরো থাকছে 18 W এর wired রিভার্স চার্জিং। তবে বক্সে কোন চার্জার দেয়া থাকছে না। ফোনটির থিকনেস 7.94″ ও ওজন 183.7 g।

ফোনটির ডিসপ্লে প্রোটেকশন হিসেবে ডিউরেবল গ্লাস ব্যবহারের কথা বললেও সুনির্দিষ্টভাবে কোন গ্লাস তা স্পেসিফাই করেনি রেডমি। পান্ডা বা কোন চাইনিজ গ্লাস ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। IP64 ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্টেন্স আছে। টেস্ট কন্ডিশনে মার্বেল সার্ফেসে 1.8 m থেকে ড্রপ সামলাতে পেরেছে ফোনটি।

ই-কম্পাস ও জাইরোস্কোপ সহ প্রয়োজনীয় সব সেন্সর এখানে আছে। থাকছে ডুয়াল স্পিকার। ফোনটিতে NFC সমর্থন আছে। আর হ্যা, থাকছে শাওমির ট্রেডমার্ক IR Blaster। এখানে হাইব্রিড কার্ড স্লট থাকছে। ফলে দুটি সিম অথবা একটি সিম, একটি মেমোরি কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

Android 15 বেজড HyperOS 2 এর সাথে রেডমি নোট ১৫ এসেছে। সামনে তারা HyperOS 3 আপডেট দিয়ে দিবে আশা করা যায়। এছাড়া রেডমি নোট ১৫ সিরিজে তারা ৬ বছরের সিকিউরিটি আপডেট দেয়ার কথা জানিয়েছে।

Redmi Note 15 5G

রেগুলার নোট ১৫ থেকে নোট ১৫ 5G এর মূল তফাৎ এর চিপসেট এবং 5G নেটওয়ার্ক সমর্থন। 5G সমর্থিত Qualcomm Snapdragon 6 Gen 3 চিপসেট থাকছে এখানে, যা সার্বিকভাবে G100 থেকে পাওয়ারফুল একটি চিপসেট।

রেয়ার ক্যামেরা সেটআপে 8 MP একটি আল্ট্রাওয়াইড লেন্স যুক্ত হয়েছে। বাদবাকি ক্যামেরা সেটআপ সিমিলার থাকলেও এখানে রেয়ার ক্যামেরাতে 4K 30fps পর্যন্ত সমর্থন করে। তবে 1080p 60fps রেকর্ডিং সম্ভবত থাকছে না।

রেডমি নোট ১৫ 5G – গ্লেসার ব্লু

ব্যাটারী এখানে থাকছে 5520 mAh, যার সাথে 45W টার্বো চার্জিং সমর্থিত। ব্যাটারী একটু কমার সাথে ফোনটার থিকনেস ও ওজন যথাক্রমে 7.4 mm ও 178 g এ নেমে এসেছে।

Redmi Note 15 Pro+ 5G

বাংলাদেশের বাজারে সম্ভবত রেডমি সিরিজে এতটা হাই বাজেটের ফোন আমরা এর আগে দেখিনি। ২৭ হাজার টাকাতে শুরু হওয়া সিরিজ শেষ হয়েছে ৬৩ হাজারে এসে। ব্যাপারটা একরকম ইনসেইন। তো এই বাজেটে আসলে মোবাইলের সূক্ষ্ম দিকগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে, যেটা শুধু স্পেকশিট দেখে কভার করা একদমই অসম্ভব।

Redmi Note 15 Pro+ 5G তে থাকছে 6.83″ 120 Hz 1.5K (2772 x 1280) ডিসপ্লে। থাকছে HDR 10+ সাপোর্ট, 1800 nits HBM এবং 3200 nits পিক ব্রাইটনেস। ডিসপ্লে প্রোটেকশনের জন্য রয়েছে Corning Gorilla Glass Victus 2। ফোনটিতে থাকছে IP66, IP68, IP69 ও IP69K ওয়াটার এন্ড ডাস্ট রেজিস্টেন্স। টেস্ট কন্ডিশনে ফোনটি 2.5 m পর্যন্ত ড্রপ রেজিস্টেন্স দেখিয়েছে।

ব্লাক ও গ্লেসার ব্লু-র পাশাপাশি মকা ব্রাউন আরেকটি কালার ভ্যারিয়েন্ট থাকছে ফোনটির, যেখানে ব্যাকপার্টে লেদার টেক্সচারের সাথে প্রিমিয়াম একটা লুক আছে। ফোনটির ওজন ২০৮ গ্রামের দিকে। ব্লাক ও গ্লেসার ব্লু ভ্যারিয়েন্টদুটোতে শাওমির ভাষায় ফাইবারগ্লাস ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার হয়েছে এবং এদের থিকনেস 8.19 mm। মকা ব্রাউন ভ্যারিয়েন্টটির থিকনেস 8.47 mm।

রেডমি নোট ১৫ প্রো+ 5G – মকা ব্রাউন

চিপসেট হিসেবে 4 nm প্রসেসের Snapdragon 7s Gen 4 দেয়া হয়েছে এখানে, জিপিইউ Adreno 810। তবে র‌্যাম ও স্টোরেজ টাইপ এখানে এসেও LPDDR4X ও UFS2.2-ই থাকছে।

ক্যামেরা সেকশনে 1/1.4″ সেন্সর সাইজের 200 MP f/1.7 প্রাইমারী ক্যামেরাতে থাকছে অপটিকাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS)। সাথে 8 MP f/2.2 আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা থাকছে। আলাদা টেলিফটো লেন্স থাকছে না। ফ্রন্ট ক্যামেরা 32 MP। রেয়ার ক্যামেরাতে 4K 30fps এবং রেয়ার ও ফ্রন্ট উভয় ক্যামেরাতে 1080p 60fps রেকর্ডিং সমর্থন করে।

সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তির ব্যাটারী ব্যবহার হয়েছে এই ফোনে, থাকছে 6500 mAh এর হিউজ ব্যাটারী ক্যাপাসিটি ও 100W এর হাইপারচার্জ সমর্থন, যা ৪০ মিনিটে পুরো ব্যাটারী চার্জ করতে সক্ষম। এবং এখানে অবশ্য বক্সের মধ্যেই 100W চার্জার থাকবে। ডিভাইসটি 22.5 W এর রিভার্স চার্জিং সমর্থন করে। তবে ওয়ারলেস চার্জিং সমর্থন থাকছে না।


তো আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেককে আমি Redmi Note সিরিজ ব্যবহার করতে দেখেছি। তবে গ্রাহকদের কাছে যেই জায়গাটা এই সিরিজের ছিলো, সেই জায়গাটা রেডমি বর্তমানে হারানোর দিকে যাচ্ছে কিনা এই প্রশ্নের অবকাশ আছে। আমার রুমমেটের অভিজ্ঞতা থেকে বলি, যে Redmi Note 10 ও পরবর্তীতে 13 ব্যবহার করেছে, Note 10 এর অভিজ্ঞতা থেকে যে প্রত্যাশা তার তৈরি হয়েছিলো Note 13 তার পুরোটা পূরণ করতে পারেনি, বিশেষ করে ক্যামেরার জায়গাতে।

Redmi Note 15 যে দাম ও স্পেকের সাথে এসেছে, তাতে অন্তত অফিসিয়াল মার্কেটে আগের অবস্থানে সিরিজটা থাকছে না, এটা বলাই যায়। দেখতে পারেন: রেজ্যুলেশন, পিক্সেল ডেনসিটি, মেগাপিক্সেল, পিক্সেল বিনিং ও সুপার রেজ্যুলেশন পরিবেশনায়: GR+ BD


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Thank's for visiting me!

X