নতুন ফিচার: হোয়াটসঅ্যাপে এখন অ্যাকাউন্ট ছাড়াই চ্যাট করা যাবে এবং কোম্পানির লুকিয়ে রাখা ১০টি ফিচার, যা ৯৯.৯% মানুষই জানে না!


সকালের গুড মর্নিং থেকে শুরু করে মধ্যরাতের গোপন আলাপ, আমাদের জীবনের প্রতিটা মুহূর্তের বিশ্বস্ত সঙ্গী এখন সবুজ রঙের ছোট্ট একটি আইকন। হ্যাঁ, আমি হোয়াটসঅ্যাপের কথাই বলছি। এই অ্যাপটি এখন আর কেবল মেসেজ পাঠানোর যন্ত্র নয়, এটি আমাদের ডিজিটাল আত্মার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বন্ধুত্বের উষ্ণতা, পরিবারের বাঁধন, অফিসের চাপ, আর ভালোবাসার মানুষের সাথে কাটানো একান্ত মুহূর্ত সবকিছুর নীরব সাক্ষী এই হোয়াটসঅ্যাপ।

কিন্তু একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন তো, যে অ্যাপটিকে আপনি দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যবহার করছেন, তার কতটুকু রহস্য আপনি ভেদ করতে পেরেছেন? আমরা বেশিরভাগই হয়তো মেসেজ, ছবি আর ভিডিও কলের জগতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু এই পরিচিত পর্দার আড়ালে যে কত বড় এক জাদুর বাক্স লুকিয়ে আছে, তার খবর কজন রাখি? মেটার এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটি প্রায়শই নিঃশব্দে এমন সব বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে, যা আমাদের চ্যাটিংয়ের সংজ্ঞাই পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

ট্রিকবিডিতে করা আমার এই ১০ নাম্বার আর্টিকেলে হোয়াটসঅ্যাপের সেই রহস্যময় জগতের দরজাই খুলতে চলেছি। আমি এমন কিছু অবিশ্বাস্য নতুন ফিচারের কথা বলব যা আপনার কল্পনাকেও হার মানাবে। আর তার মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ছাড়াই চ্যাট করার সুবিধা! শুধু তাই নয়, আমরা এমন ১০টি গোপন ফিচারের পর্দাফাঁস করব, যা বিশ্বের ৯৯.৯% ব্যবহারকারীই হয়তো জানেন না বা জেনেও ব্যবহার করেন না।

তাহলে আর অপেক্ষা কেন? চলুন শুরু করি? আজকের এই বিশেষ আর্টিকেল!

চলুন প্রথমেই দেখে নেয়া যাক হোয়াটসঅ্যাপের যুগান্তকারী নতুন কিছু ফিচারসমূহ:

প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত বদলায়, আর সেই বদলের সাথে তাল মিলিয়ে হোয়াটসঅ্যাপও নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে তুলছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেইসব অত্যাধুনিক ফিচার, যা ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দেবে।

১. অ্যাকাউন্ট ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট:

আচ্ছা একটু কল্পনা করুন তো, আপনার এমন একজনের সাথে জরুরি ভিত্তিতে কথা বলা প্রয়োজন যার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নেই। অথবা ধরুন, কোনো অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে কিছু কেনার পর ডেলিভারি এজেন্টের সাথে ক্ষণিকের জন্য যোগাযোগ করতে হবে, কিন্তু তার জন্য নিজের ব্যক্তিগত নম্বর শেয়ার করে হোয়াটসঅ্যাপে কন্টাক্ট সেভ করতে আপনি রাজি নন। এতদিন এটি ছিল এক অসম্ভব কল্পনা। কিন্তু প্রযুক্তি অসম্ভবকে সম্ভব করারই অপর নাম।

হোয়াটসঅ্যাপ তার ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়ে আসছে (গেস্ট চ্যাট) নামক এক অবিশ্বাস্য ফিচার। এই জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় আপনি এমন মানুষের সাথেও অনায়াসে চ্যাটিং চালিয়ে যেতে পারবেন, যাদের হোয়াটসঅ্যাপে কোনো রেজিস্টার্ড অ্যাকাউন্টই নেই!

ব্যাপারটা ঠিক কী? প্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং হোয়াটসঅ্যাপের ফিচার ট্র্যাকার WABetaInfo-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই যুগান্তকারী ফিচারটি বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েডের বিটা ভার্সন 2.25.22.13 এ নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধীনে রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা এবং সুবিধার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা। এই ফিচারটি সম্পূর্ণভাবে হোয়াটসঅ্যাপের নিজস্ব সুরক্ষিত ইকোসিস্টেমের মধ্যেই কাজ করবে। অর্থাৎ, আপনাকে অন্য কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপের দ্বারস্থ হতে হবে না। আপনি হোয়াটসঅ্যাপ থেকেই একটি অস্থায়ী বা গেস্ট চ্যাট সেশন শুরু করতে পারবেন, যা নির্দিষ্ট সময় বা কাজ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে।

ভাবুন তো একবার, এর ফলে আমাদের জীবন কতটা সহজ হয়ে যাবে! আর অপ্রয়োজনীয় কন্টাক্ট সেভ করে ফোনের তালিকা দীর্ঘ করতে হবে না, ব্যক্তিগত নম্বরও থাকবে সুরক্ষিত। এটি নিঃসন্দেহে ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি সুরক্ষায় একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হতে চলেছে।

২. মোশন ফটো ফিচার:

আমরা এতদিন হোয়াটসঅ্যাপে স্থির ছবি আর দীর্ঘ ভিডিও শেয়ার করে এসেছি। কিন্তু কেমন হয় যদি ছবি এবং ভিডিওর মাঝামাঝি কিছু একটা তৈরি করা যায়? অর্থাৎ, এমন একটি ছবি যা স্থির নয়, বরং কয়েক সেকেন্ড ধরে হালকা নড়াচড়া করে এবং তার সাথে জুড়ে দেওয়া যায় ছোট্ট একটি অডিও ক্লিপ? অনেকটা হ্যারি পটারের জাদুর জগতের সেই জীবন্ত খবরের কাগজের ছবিগুলোর মতো!

হোয়াটসঅ্যাপ ঠিক এই স্বপ্নকেই সত্যি করতে চলেছে তাদের নতুন Motion Photo ফিচারের মাধ্যমে। কিছু ভাগ্যবান বিটা ব্যবহারকারীর কাছে এই ফিচারটি ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের ছবিতে প্রাণ সঞ্চার করতে পারবেন। একটি সাধারণ ছবিতে কয়েক সেকেন্ডের মুভমেন্ট এবং অডিও যোগ করে সেটিকে সরাসরি চ্যাট, গ্রুপ, এমনকি চ্যানেলেও শেয়ার করা যাবে।

এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই ধরনের মোশন-বেসড কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করার জন্য আপনাকে আর ইনস্টাগ্রামের বুমেরাং বা অন্য কোনো অ্যাপের ওপর নির্ভর করতে হবে না। হোয়াটসঅ্যাপের ক্যামেরা ইন্টারফেস থেকেই সরাসরি এই মোশন ফটোগুলো ক্যাপচার ও এডিট করা যাবে। সন্তানের প্রথম পদক্ষেপ, বন্ধুদের সাথে আড্ডার কোনো মজার ঝলক কিংবা প্রকৃতির কোনো নৈসর্গিক দৃশ্যকে আরও জীবন্ত করে তোলার জন্য এই ফিচারটি হতে চলেছে এক কথায় অসাধারণ।

৩. অচেনা গ্রুপে যোগ হলেই বাজবে সতর্কঘণ্টা:

হঠাৎ একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, আপনাকে এক রাতেই কোটিপতি বা এই জাতীয় কোনো অচেনা, সন্দেহজনক গ্রুপে যোগ করে দেওয়া হয়েছে। এমন বিব্রতকর এবং বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা আমাদের কমবেশি সবারই আছে। এই ধরনের গ্রুপগুলো প্রায়শই স্ক্যাম, ফিশিং লিঙ্ক বা ভুয়া খবর ছড়ানোর এক উর্বর ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

ব্যবহারকারীদের এই ধরনের বিড়ম্বনা এবং ডিজিটাল প্রতারণার জাল থেকে রক্ষা করতে হোয়াটসঅ্যাপ একটি চমৎকার সিকিউরিটি ফিচার যোগ করেছে। এখন থেকে যদি কোনো অচেনা ব্যক্তি, যার নম্বর আপনার কন্টাক্ট লিস্টে সেভ করা নেই, আপনাকে কোনো গ্রুপে যোগ করে, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ আপনাকে তৎক্ষণাৎ একটি পপ-আপ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সতর্ক করবে।

এই নোটিফিকেশনে আপনাকে স্পষ্ট জিজ্ঞাসা করা হবে আপনি গ্রুপটিতে যোগ থাকতে চান, নাকি বেরিয়ে আসতে চান। এখানেই শেষ নয়, আপনাকে সেই গ্রুপ এবং অ্যাডমিনের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার অপশনও দেওয়া হবে। এর ফলে, ব্যবহারকারীরা নিজেদের অজান্তেই কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা বিপজ্জনক গ্রুপে যুক্ত হওয়া থেকে শতভাগ সুরক্ষিত থাকতে পারবেন। এটি কেবল একটি ফিচার নয়, এটি ডিজিটাল স্পেসে আপনার ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য হোয়াটসঅ্যাপের একটি শক্তিশালী বর্ম।

৪. গ্রুপ চ্যাটেই এবার স্ট্যাটাস আপডেট: যোগাযোগ হবে আরও নিবিড় ও ব্যক্তিগত:

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলো এখন শুধুই চ্যাটিং বা ফাইল শেয়ারিংয়ের জায়গা নয়। একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ, যেমন কলেজের বন্ধুদের গ্রুপ, পরিবারের গ্রুপ বা অফিসের সহকর্মীদের গ্রুপ, প্রত্যেকটির নিজস্ব একটি পৃথিবী থাকে। সেই পৃথিবীর ছোট ছোট মুহূর্ত বা আপডেটগুলো সবার সাথে শেয়ার করার জন্য এতদিন আমাদের আলাদা করে স্ট্যাটাস দিতে হতো, যা হয়তো সবাই দেখতে পেত।

কিন্তু নতুন আপডেটে এই প্রক্রিয়াটি আরও সহজ এবং গ্রুপ-কেন্দ্রিক হতে চলেছে। হোয়াটসঅ্যাপ এখন গ্রুপ ইনফো স্ক্রিন থেকেই সরাসরি সেই গ্রুপের জন্য নির্দিষ্ট (স্ট্যাটাস আপডেট) তৈরি এবং শেয়ার করার সুযোগ দিচ্ছে। ধরুন, আপনার বন্ধুদের গ্রুপের কোনো বিশেষ ট্যুরের ছবি বা ভিডিও আপনি শুধু সেই গ্রুপের সদস্যদের জন্যই স্ট্যাটাস হিসেবে দিতে চান, তাহলে এখন থেকে তা সরাসরি গ্রুপ চ্যাটের ভেতর থেকেই সম্ভব হবে।

এই স্ট্যাটাস আপডেটটি গ্রুপের নামের পাশে একটি সুন্দর বৃত্তাকার আইকন হিসেবে বা আপডেটস ট্যাবের নিচে দেখা যাবে। প্রযুক্তি বিষয়ক পোর্টালগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই ফিচারটি বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েডের বিটা ভার্সন 2.25.22.11 এ উপলব্ধ রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই সকল ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে। এর ফলে গ্রুপ কমিউনিকেশন আরও মজাদার, ব্যক্তিগত ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

৫. শুভেচ্ছা জানান বিশেষ ওয়েভ ইমোজি দিয়ে:

কারও সাথে প্রথমবার চ্যাট শুরু করতে গেলে আমরা প্রায়শই দ্বিধায় পড়ি কী লিখে শুরু করব? Hi বা Hello বড্ড সাদামাটা এবং আনুষ্ঠানিক মনে হয়। এই ছোট্ট মনস্তাত্ত্বিক সমস্যাটির একটি মিষ্টি সমাধান নিয়ে এসেছে হোয়াটসঅ্যাপ।

নতুন একটি ফিচারে, আপনি যখন এমন কোনো কন্টাক্টের সাথে চ্যাট উইন্ডো খুলবেন যার সাথে আপনার আগে কখনো মেসেজ আদান-পদান হয়নি, তখন হোয়াটসঅ্যাপ আপনাকে একটি বিশেষ ওয়েভ ইমোজি (👋) পাঠানোর জন্য উৎসাহিত করবে। এই ইমোজিটি একটি উষ্ণ শুভেচ্ছা বার্তা হিসেবে কাজ করবে। এটি শুধু একটি ইমোজি নয়, এটি কথোপকথন শুরু করার একটি সহজ, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং আধুনিক উপায়। এই ছোট্ট সংযোজনটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রাথমিক জড়তা কাটাতে এবং একটি ইতিবাচক আলাপচারিতা শুরু করতে দারুণভাবে সাহায্য করবে।

৬. প্রোফাইল ছবি হারানো গেছে? নো টেনশন! ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম আছে তো:

আমাদের অনেকের সাথেই এমনটা হয়েছে যে, ফোনের গ্যালারি থেকে ভুলবশত প্রিয় প্রোফাইল ছবিটি ডিলিট হয়ে গেছে অথবা ফোন বদলানোর সময় পুরনো ছবিটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই বিশেষ ছবিটি আবার প্রোফাইলে সেট করার ইচ্ছা থাকলেও উপায় থাকে না।

এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে মেটা তার নিজস্ব ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করছে। হোয়াটসঅ্যাপে আসছে এক দারুণ সুবিধা, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে প্রোফাইল ছবি ইমপোর্ট করতে পারবেন। অর্থাৎ, আপনার ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ব্যবহৃত প্রোফাইল ছবিটি আপনি এক ক্লিকেই হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইল ছবি হিসেবে সেট করতে পারবেন।

অ্যান্ড্রয়েডের বিটা ভার্সন 2.25.21.23-এ এই ফিচারটি প্রথম দেখা গিয়েছে। এটি কেবল ব্যবহারকারীর জীবনকেই সহজ করবে না, মেটার তিনটি প্রধান প্ল্যাটফর্মের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এর মধ্যে একটি গভীর এবং শক্তিশালী সংযোগও তৈরি করবে।

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক হোয়াটসঅ্যাপের সেই ১০টি লুকিয়ে রাখা ফিচার যা আপনি হয়তো এখনো জানেন না!

এতক্ষণ আমরা জানলাম সেইসব নতুন ফিচার সম্পর্কে, যা হোয়াটসঅ্যাপ জগতে আসছে বা সম্প্রতি এসেছে। এগুলো তো গল্পের কেবল ভূমিকা। আসল রহস্য তো এখনো উন্মোচন বাকি! হোয়াটসঅ্যাপের ভেতরেই এমন অনেক শক্তিশালী টুলস বা ফিচার লুকিয়ে আছে যা বহু বছর ধরেই বিদ্যমান, কিন্তু আমরা অনেকেই তার অস্তিত্ব সম্পর্কেই সচেতন নই।

এই নতুন ফিচারগুলো যেমন আমাদের ভবিষ্যতের চ্যাটিং অভিজ্ঞতাকে বদলে দেবে, তেমনই সেই লুকিয়ে থাকা ফিচারগুলো আপনার বর্তমান হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের পদ্ধতিকেই পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে। তো চলুন, এবার জেনে নেওয়া যাক হোয়াটসঅ্যাপের সেই ১০টি অবিশ্বাস্য হিডেন ফিচার, যা জানার পর আপনি অবাক হয়ে ভাববেন, ইশ! এটা যদি আগে জানতাম!

১. চ্যাট লক ও পাসকোড:

আপনার ফোনটি হয়তো বন্ধুর হাতে, অথবা পরিবারের কেউ ব্যবহার করছে। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপে এমন কিছু ব্যক্তিগত চ্যাট রয়েছে যা আপনি চান না অন্য কেউ দেখুক। এর সমাধান? চ্যাট লক! আপনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিগত বা গ্রুপ চ্যাটকে লক করে রাখতে পারেন। লক করা চ্যাটগুলো একটি আলাদা ফোল্ডারে চলে যাবে এবং কেবল আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি দিয়েই খোলা যাবে। সম্প্রতি এতে পাসকোড প্রোটেকশনও যুক্ত হয়েছে, যা আপনার গোপনীয়তাকে আরও মজবুত করে।

২. ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ:

কিছু কথা থাকে যা চিরস্থায়ী হওয়ার জন্য নয়। কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা ব্যক্তিগত আলাপ যা আপনি চান না চিরকাল চ্যাট হিস্ট্রিতে থেকে যাক, তার জন্য রয়েছে ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ। আপনি নির্দিষ্ট চ্যাটের জন্য ২৪ ঘণ্টা, ৭ দিন বা ৯০ দিনের টাইমার সেট করে দিতে পারেন। সময়সীমা পার হলেই সেই চ্যাটের মেসেজগুলো উভয় পক্ষ থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে, কোনো চিহ্ন না রেখেই!

৩. মেসেজ এডিট:

দ্রুত টাইপ করতে গিয়ে ভুল শব্দ বা বাক্য লিখে পাঠিয়ে দিয়েছেন? আর বিব্রত হওয়ার দিন শেষ। হোয়াটসঅ্যাপ এখন আপনাকে পাঠানো মেসেজ ১৫ মিনিটের মধ্যে এডিট করার সুযোগ দেয়। পাঠানো মেসেজের ওপর লং প্রেস করে Edit অপশন সিলেক্ট করলেই আপনি ভুল শুধরে নিতে পারবেন। এটি সম্পর্ক এবং পেশাগত যোগাযোগে অনেক ভুল বোঝাবুঝি থেকে বাঁচায়।

৪. অডিও মেসেজ লক:

লম্বা ভয়েস মেসেজ রেকর্ড করার সময় মাইক্রোফোন আইকনটি চেপে ধরে রাখতে রাখতে আঙুলে ব্যথা হয়ে যায়? এই সমস্যার সহজ সমাধান হলো অডিও মেসেজ লক। রেকর্ডিং শুরু করার পর আইকনটি উপরের দিকে সোয়াইপ করে লক করে দিন। এরপর হাত সরিয়ে নিলেও রেকর্ডিং চলতে থাকবে। আপনি আরামে কথা বলতে পারবেন, এমনকি রেকর্ডিং চলাকালীন চ্যাটের অন্য মেসেজও দেখতে পারবেন।

৫. পোল তৈরি:

বন্ধুরা মিলে কোথায় ঘুরতে যাবেন? বা পরিবারের সবাই মিলে কী খাবেন? এসব নিয়ে গ্রুপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তর্ক-বিতর্ক না করে, সহজ সমাধান হলো পোল তৈরি করা। গ্রুপ বা ব্যক্তিগত চ্যাটে আপনি কয়েকটি অপশন দিয়ে একটি পোল তৈরি করে সবার মতামত নিতে পারেন। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ ও দ্রুত হয়ে যায়।

৬. চ্যাট পিন ও স্টার মেসেজ:

প্রতিদিন শত শত মেসেজের ভিড়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যাটটি (যেমন: বসের বা প্রিয়জনের) খুঁজে পেতে কষ্ট হয়? আপনার সবচেয়ে দরকারি চ্যাটটিকে পিন করে সবার উপরে রাখুন। আর কোনো চ্যাটের ভেতরের কোনো নির্দিষ্ট মেসেজ (যেমন: ঠিকানা, ফোন নম্বর বা কোনো তথ্য) যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে সেটিকে স্টার মার্ক করে রাখুন। পরে প্রোফাইল থেকে Starred Messages অপশনে গেলেই সব জরুরি মেসেজ একসাথে পেয়ে যাবেন।

৭. কাস্টম নোটিফিকেশন:

ফোন পকেট থেকে বের না করেই বুঝতে চান কার মেসেজ এসেছে? কাস্টম নোটিফিকেশন ফিচারের মাধ্যমে আপনি প্রতিটি কন্টাক্টের জন্য আলাদা মেসেজ টোন এবং রিংটোন সেট করতে পারেন। ফলে, নোটিফিকেশন সাউন্ড শুনেই আপনি বুঝে যাবেন বার্তাটি জরুরি নাকি সাধারণ।

৮. মেসেজ ফরওয়ার্ড সীমাবদ্ধতা:

আপনি কি জানেন, হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ এখন একবারে পাঁচটির বেশি চ্যাটে ফরওয়ার্ড করা যায় না? এটি কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, এটি একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। ভুয়া খবর এবং গুজব দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া রোধ করতেই এই ব্যবস্থা। একজন সচেতন ব্যবহারকারী হিসেবে এই নিয়মটি জানা এবং মানা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব।

৯. লাইভ লোকেশন শেয়ারিং:

আপনি একা কোথাও যাচ্ছেন বা কোনো বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন কিন্তু জায়গাটা খুঁজে পাচ্ছেন না? নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (১৫ মিনিট, ১ ঘণ্টা বা ৮ ঘণ্টা) আপনার লাইভ লোকেশন কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের সাথে শেয়ার করুন। এতে আপনার প্রিয়জনেরা আপনি নিরাপদে আছেন কি না তা ট্র্যাক করতে পারবেন এবং বন্ধুরা সহজেই আপনার কাছে পৌঁছাতে পারবে।

১০. অদৃশ্য অনলাইন স্ট্যাটাস:

আপনি হোয়াটসঅ্যাপে আছেন, কিন্তু চান না যে কেউ বুঝুক আপনি অনলাইন। এটা সম্ভব! প্রাইভেসি সেটিংসে গিয়ে আপনি আপনার অনলাইন স্ট্যাটাস সবার কাছ থেকে, অথবা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে পারেন। এর ফলে আপনি নিজের মতো করে শান্তিতে মেসেজ পড়তে বা লিখতে পারবেন, কেউ আপনাকে বিরক্ত করবে না।

শেষ কথা:

হোয়াটসঅ্যাপ এখন আর শুধু একটি অ্যাপ নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম। একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানলে আমাদের ডিজিটাল জীবন অনেক বেশি সহজ, সুরক্ষিত এবং আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে। আজ আমরা যে নতুন এবং গোপন ফিচারগুলো সম্পর্কে জানলাম, সেগুলো ব্যবহার করে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন পাওয়ার ইউজার।

সুতরাং, আর দেরি না করে আজই এই ফিচারগুলো এক্সপ্লোর করা শুরু করুন এবং আপনার বন্ধুদের সাথে এই অমূল্য তথ্য শেয়ার করে তাদেরকেও চমকে দিন। কারণ জ্ঞান ভাগ করে নিলেই বাড়ে। আর এখন আপনি সেই ০.১% মানুষের একজন, যারা হোয়াটসঅ্যাপের আসল শক্তি সম্পর্কে জানেন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Thank's for visiting me!

X