জুয়ার নেশা হতে মুক্তির উপায়?!


জুয়ার নেশা হতে মুক্তির উপায়?!

যেকোন নেশা তা হোক জুয়ার নেশা কিংবা ড্রাগ অথবা অন্য যা যা কিছু — এসব নিয়ে লিখে কি হবে?

কারণ “আর্টিকেল পড়ে কেউ কখনো ভালো হয় না” — মিন হোয়াইল “যারা আসলে এমন তাদের আসলে এসব লেখা পড়ার সময় বা স্কোপই কোনটাই নেই, তাই ভালো/মন্দের তো প্রশ্নই আসে না”।

তাহলে কি দাঁড়ালো?

আমি ট্রিকবিডির রেভিনিউর লোভে লিখছি নয়তো কেবল ফেইমের জন্যই লিখছি; আর আপনি হয়তো শুধুই পড়ার জন্য পড়ছেন নতুবা সার্চ রেজাল্টে এসেছে তাই পড়ছেন!
নাহ এমন প্রেফারেন্স একদমই কাম্য নয়।
আমার দরকার একদম রিয়েল লাইফ ইনস্ট্যান্ট ফিডব্যাক!

বিঃদ্রঃ এই অংশে জানিয়ে রাখা ভালো — এটি কেবল একটি লেখা নয় বরং একটি সাইকোলজিক্যাল প্রোগ্রাম যা আপনার মাথা তথা মগজ ও মননে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে — নেশার আসক্তি হতে মুক্তির জন্য!

চলুন শুরু করা যাক….

জুয়া কি?
ভাইরে ভাই… এতসব সংজ্ঞা বা বর্ণনার দরকার নাই, যাতে টাকা পাই আর জিতে যাওয়ার থ্রিল পাই সেটাই আমার জয়!
ওয়েল…. আপনি জিতুন এবং জিততে থাকুন; শুভকামনা রইলো!
তবে যখন হেরে যাবেন কিংবা আর কখনোই জিততে পারছেন না, লস রিকভারি করার দরকার হবে কিংবা একদম সর্বশান্ত হবেন অথবা এমন অবস্থা হবে যেন আপনি সবার কাছে টাকায় ঋণী হয়ে মুক্তির জন্য হাঁসফাঁস করছেন — একটা উইন হলেই সব ছেড়ে ছুঁড়ে একদম নিষ্পাপ হয়ে যাবেন বলে ভাবছেন ঠিক তখন “আমার এই লেখাটি আপনার দরকার হবে” — আর তাতেই হবে আমার স্বার্থকতা [সাইকোলজিক্যাল স্যাটিসফ্যাকশন]!

আপনি যদি জুয়া খেলেন তবে ফলো-আপ করুন….

সবার আগে একটু শান্ত হোন [আপনার মস্তিষ্ককে একটু রিল্যাক্স করুন]। >>> আপনি ৫ হতে ৭ বার দীর্ঘ করে বুক ভরে শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে সেটা ছেড়ে দিন >>> আপাতভাবে আপনি এমনি করে ৩ হতে ৬ মিনিট সময় কাটান >>> আপনি এখন মোটামুটি মানসিকভাবে শান্ত হয়েছেন!

এখন শুনুন… আপনি যে জুয়া খেলেন সেটা কি আদৌ খেলা?
আই মিন ছোট বাচ্চাকাচ্চা যেমন ব্যাট বল খেলে (পিচ্চিদের ক্রিকেট যাকে বলে) — তেমন কোন খেলা নাকি ফুটবল খেলা?!
নাহ, আপনি তো এমন কিছুই খেলেন না… আপনি খেলেন টাকার খেলা! যে খেলা খেলে টাকা ইনকাম উৎপন্ন করা যায় আবার ডিপোজিট করা টাকাও হারিয়ে যায়, তাইনা?!

এই যে ভদ্রলোকের শুশুকের বাচ্চা (বানান সঠিকভাবে পড়ুন নয়তো ভুল উচ্চারণ করে ফেললে আমি কিন্তু দায়ী নই) — একটু আগে কি বললেন?

– ইনকাম করেন?

জুয়া খেলাটাকে আপনি ইনকাম বলেন কোন আক্কেলে বলুন তো?
যেখানে আপনার কোন শারীরিক শ্রম বা মানসিক স্ট্যামিনা (হুদাই টাকা ডিপোজিট করে টেনশন কেনা ছাড়া) খরচ হচ্ছে না — উল্টো ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে গিয়ে কখন রাত কি দিন পার হয় টের পান না, সেটাকে আবার ইনকাম বলেন?

আহারে… সোনা ময়না পাখি চোখটা একটু রাস্তার দিকে তাকান; সেখানে দেখবেন কত মানুষ রিকশা চালাচ্ছে / ভ্যান চালাচ্ছে / গার্মেন্টসে যাচ্ছে / আরে একটা চিঁচকা চোরও সারা রাত কষ্ট করে শ্রম ও সময় এবং বুদ্ধি দিয়ে চুরি করে সকালে ঘরে ফিরে — ঐটাকে ইনকাম বলে!

হ্যাঁ রে বাবা “ইনকাম” ঐটাকেই বলে!

চোর যে চুরি করে ইনকাম করে সেটা খারাপ হতে পারে তবে তাতেও তার কষ্ট হয় এবং শ্রম যায়; তাই সেটা হারাম ইনকাম হলেও অ্যাটলিস্ট ইনকাম তো নাকি?
আর আপনি স্রেফ ভাগ্যের ভরসাতে টুকুস টুকুস এই বেট ঐ বেট লাগিয়ে কখনো দুই দশবার জেতার বদলে পকেট থেকে দশ হাজার খসিয়ে “কি এমন ইনকামের কথা ভাবেন?”
নাহ রে বাবা, আমি আপনাকে বকা দিচ্ছি না, গালও দিচ্ছি না।
আমি আপনার ভেতরে ঢুকে আপনার হয়েই আপনাকে প্রশ্ন করছি….

“যেটাতে শরীরের ঘাম ছুটে না — যে কাজে মাথার ব্যায়ামে মাথা ব্যথা করে না — যে কাজের কথা কাউকে সম্মান নিয়ে নিজের পরিচয় বোঝাতে বলা যায় না” — সেটা কি এমন কাজ?
আর তা হতে যে টাকা আসে সেটা আদৌ ইনকাম বলা যায়?
সেই ইনকামে কি পুরুষের পৌরুষব্যঞ্জক যে গর্ব ও অহংকার থাকে সেটার ফিলিংস পাওয়া যায়?

“ইনকাম” শব্দটার একটা মান আছে — সম্মান আছে; সেটাকে দয়া করে জুয়ার টাকাতে এমন মলিন করবেন না, প্লিজ।

আর হ্যাঁ, দয়া করে এখনই পড়া ছেড়ে দিয়েন না; আপনি তো জুয়া খেলতে চান তাইনা? আপনি যে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী হন না কেন তার দোহায় অবশ্যই আমি আপনার সাথে এই লেখার মাধ্যমে সর্বোচ্চ লেভেলে জুয়া খেলবো… সুতরাং দয়া করে পড়তে থাকুন প্লিজ!

আপনি যখন জুয়া খেলেন সেটা আসলে (১) না তো আনন্দ দেবার মতো কোন খেলা করেন যা বিনোদন প্রদান করে লাইক টাকা খরচ করে মুভি দেখা, ফাস্টফুড খাওয়া ইত্যাদি অথবা (২) না তো এমন কাজ যা আসলেই ক্রিয়েটিভ কিছু প্রডিউস করছে — এই যেমন আমি এই লেখাটি লিখে সাইকোলজিক্যাল স্যাটিসফ্যাকশন পাচ্ছি কিংবা কেউ চাকরি করে মাস শেষে বেতন পাচ্ছে অথবা দিনমজুর যে কিনা ভোর হতে বিকাল অবধি মাটি কেটে মজুরি ঘামের ভেজা কোমরে গুজে।

আপনি আসলে “টাকা দিয়ে টাকা তৈরি করার এমন একটা মেশিনে ফেঁসে গিয়েছেন যাতে গোলকধাঁধায় আটকে কেবলি টাকা ফুরাচ্ছে — টাকা আর উৎপন্ন হচ্ছে না” — বিষয়টা এমন নয় যে “আপনি জানেন না — আসলে আপনি জানেন” তবুও ঠিক সমাধান করে উঠতে পারছেন না, রাইট?!

ইয়েস…. আমি আপনার মানসিক অবস্থা বুঝতে পারছি সুতরাং রিল্যাক্স হোন; অবশ্যই আপনি জয়ী হবেন!

এখন যা যা বলছি খুব মন দিয়ে পড়ুন…

(১) জুয়া এমন একটি বিষয় যেটাতে কেবলি ভাগ্যের ওপর ভর করতে হয় — এখন ভাগ্য জিনিসটাতে তো আপনার নিয়ন্ত্রণ নেই; তাহলে সেটা কেন খেলবেন বলুন?!
ওহো…. আপনার ভাগ্য ভালো তাই?
আচ্ছা একটা গেম খেলা যাক; আমি এবং আপনি লাইভে লাইফ নিয়ে গেম খেলবো প্রতি মিনিট ১০০ টাকা শিউর শট, রাজী আছেন?
আমি হচ্ছি আপনার গেম হোস্টার।
ঢাকা শহরের একটি চলতি রাস্তায় আপনাকে চোখ বেঁধে ছেড়ে দেবো; আপনি শুধু রাস্তার এপার হতে ওপার যাবেন — প্রতিবার রাস্তা পারাপারে ১০০ টাকা। আমি নিশ্চিত আপনি এমন গেম খেলতে রাজী হবেন না!

আচ্ছা এবার একটিবার ভাবুন “উপরের গেমে আপনি এবং আমি ফেয়ারলি খেলতে চেয়েছি — সিস্টেমে কোন চিটিং বা অ্যালগরিদম ছিলো না” তারপরও বাঁচা-মরার খেলায় ৫০% বাঁচবেন অথবা ৫০% মৃত্যু এমন খেলাতে আপনি রাজী নন; অথচ যে জুয়ার হোস্টার সে নিজে কিন্তু জুয়া না খেলে বরং সিস্টেম হতে আর্নিং করে [আপনাকে বা আপনাদের মতো মানুষকে জুয়া খেলিয়ে] তাহলে সেটাতে কেন ইচ্ছা করেই ফিরে যাচ্ছেন? আপনি যে ইচ্ছা পোষণ করে বারবার ফিরে যাচ্ছেন সেটি আসলে হওয়ার মতোই নয়!

(২) “চুলের কথা কন নাকি মিয়া? — অমুক তমুক কত জিতলো আমার সামনে”; ইটস ওকে — আসলেই তারা জিতেছে৷ তবে কেন তারা জিতেছে সেটা কি জানেন? কেন কোন কোন জুয়া কিভাবে কাউকে জেতায় সেটার লজিক কি জানেন? আচ্ছা… এই ধাপে এসে আমি আপনাকে জুয়া খেলার পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দিচ্ছি দুইটি শর্তের বিনিময়ে (ক) আপনাকে এমনভাবে জুয়া খেলতে হবে যেন সেটি আপনার জন্য কাজ হয় অর্থাৎ আপনাকে জিততে হবে। সহজভাবে বললে “জুয়াকে আপনার প্রফেশন বানান” যেখানে এটি কেন খেলা হয়? / কিভাবে খেলা হয়? / এতে আসলে ইউজার লাভ হয় নাকি হোস্ট লাভবান হয়? / এটির চূড়ান্ত লক্ষ্য কি থাকে? / কিভাবে সাধারণ মানুষ তাতে আকৃষ্ট হয়ে নিঃস্ব হয়? / কেন মানুষ লোভের বশীভূত হয়ে জুয়াতে এনগেজ হয়? ইত্যাদি — যতক্ষণে আপনি আক্ষরিকভাবেই এসব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন তখন মনে হয়না আর জুয়াতে খেলার কোন ইন্টারেস্ট পাবেন কেননা তখন আসল গোমড়াটা ফাঁস হয়েই যাবে এবং (খ) আপনি যে গেম খেলেন সেটার অ্যালগরিদম খুঁজে বের করুন — আপনি জেতার জন্যই যদি সেটা করেন তাহলে আপনার স্ট্যামিনা তেমনই হওয়া উচিত; যতদিনে আপনি পেছনের সবকিছু জানতে পারবেন ততক্ষণে সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট বনে যাবেন ফরেনসিক ডাটা অ্যানালাইসিসে যাতে জুয়া খেলার আকর্ষণ আর থাকবে না।

(৩) সবকিছু ঠিক থাকার পরও মন যেমন কেমন কেমন করে মাঝে মাঝে জুয়ার জন্য — এক্ষেত্রে আপনার সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশনস অ্যানালাইসিস ওয়াইজ মস্তিষ্কের ক্রনিক রিওয়ার্ড গেইনিং ফাংশন কাজ করে; এক্ষেত্রে আপনাকে ৩ দিন > ৭ দিন > ১৪ দিন এমনভাবে টানা সর্বনিম্ন ৩ মাস হতে ৬ মাস সেল্ফ রিহ্যাবিলিটেশনে রাখলে আপনার মানসিকতার সুস্থ অ্যালগরিদম গেইন করতে পারেন। অবশ্যই এটার জন্য একটি পরিপূর্ণ রুটিন এবং রুটিন ওয়াইজ গাইড প্রয়োজন হবে।

যতো যাই কিছুই হোক — যদিনা জুয়ার পিছু ছাড়তে পারেন তাহলে কি করবেন?
আপনাকে কিছুই করতে হবে না — একদিন সেই জুয়া আপনাকে সর্বশান্ত করবে, প্রিয়জনের সাথে মিথ্যা বলতে বাধ্য হবেন এবং সেই বাধ্য হওয়াটাই আপনাদের মাঝে দূরত্ব তৈরি করাবে, একসময় প্রিয়জন, পরিবার সবার কাছ থেকেই চরম নিঃসঙ্গ হয়ে যাবেন।
পরিস্থিতি হয়তো সবকিছু ঠিক করার মতো ন্যূনতম ক্যাপাবিলিটিও থাকবে না – তারপর?
নাহ, এরপরের তারপর আমি ভাববো না, আপনিই বরং ভাবুন…..

সকলের জন্য শুভকামনা
শুধু আপনি যদি জুয়া খেলেন তাহলে আপনার জন্য ছাড়া…..
টেলিগ্রাম নিমন্ত্রণ :- OpenEye


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Thank's for visiting me!

X