আসসালামু আলাইকুম। মনে আছে সে সময়টার কথা যখন ChatGPT কথায় কথায় স্মরণ করিয়ে দিতো ‘As an AI language model…”? এখনকার মডেলগুলো কিন্তু আর এই কাজ করে না, সবরকমভাবে মানুষের মত ইন্টারেকশনের চেষ্টা করে। এবং পরিস্থিতি কীরকম দাঁড়িয়েছে এটা নিয়ে বিস্তৃত রচনা লেখার প্রয়োজন নেই, আমরা সবাই কমবেশি জানি।
বর্তমান সময়ে মানুষ থেকে মানুষে দূরত্বটা অনেক বেড়ে গেছে। সমাজে বিচরণকারী প্রাণী থেকে আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে বিচরণকারী প্রাণী হয়ে উঠছি। যেখানে আমরা পোস্ট করি, কমেন্ট করি, রিয়েক্ট করি- কিন্তু সত্যি বলতে সোশ্যাল মিডিয়া ইনগেজমেন্ট আর মানুষের সাধারণ ইন্টারেকশনের তফাৎটা অনেক বেশি।
তো যেটা হচ্ছে, মানুষের সাথে কথা বলতে মানুষ যতটা স্বচ্ছন্দ্য না, AI-এর সাথে তার থেকে বেশি স্বচ্ছন্দ্য হয়ে উঠছে। নিজের সবরকম বিষয় শেয়ার করা শুরু করেছে। এটা অনেক দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিপজ্জনক। AI এর নিজের কোন self-awareness না থাকলেও এর পেছনে কিন্তু বিভিন্ন কোম্পানি ও মানুষ জড়িত আছে। আপনি যখন আপনার সবকিছু শেয়ার করছেন, তখন আপনি নিজের জন্য রিস্ক তৈরি করছেন।
তবে এর পাশাপাশি আরেকটা বিষয় যেটা অনেক সময় আলোচনাতে আসে না- আমরা কিন্তু AI কে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়ার বদলে অনেক ক্ষেত্রে AI-এর হয়ে কাজ করা শুরু করেছি। কীরকম? আমরা অনেকে কথায় কথায় AI-এর কাছে সাজেশন নিচ্ছি যে এই পরিস্থিতি, আমার এখন কী করা উচিৎ বা কী কী অপশন আছে। A ভালো, নাকি B ভালো। C ঠিক, নাকি D ঠিক।
আপনি যদি AI-কে নিরপেক্ষ অ্যানালাইসিসের টুল মনে করেন, তাহলে এটা বড় রকমের ভুল। উদাহরণ- ChatGPT যখন ইউক্রেন-রাশিয়া নিয়ে প্রশ্ন করবেন, সে স্বচ্ছন্দে ইউক্রেনের পক্ষে যাবে, কিন্তু ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের প্রশ্ন আসলে আমতা আমতা করা শুরু করবে। কাজেই AI অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ না, তাদের ডেভেলোপার কোম্পানি অথবা রাষ্ট্রের মতাদর্শে দীক্ষিত।
ধরা যাক এখন পর্যন্ত AI মডেলগুলো কিছু স্পেসিফিক রাজনৈতিক প্রশ্ন বাদে নিরপেক্ষভাবে আপনাকে সাজেশন দিচ্ছে। কিন্তু আপনি কি নিশ্চিত হতে পারেন, সামনে তারা আপনাকে বুঝতে না দিয়েই আরো এগ্রেসিভভাবে নির্দিষ্ট চিন্তাধারা ও মতাদর্শের দিকে নিয়ে যাওয়া শুরু করবে না? কিংবা আপনার অবস্থান বা রাজনৈতিক কারণে ভুল সাজেশন দিয়ে আপনাকে ক্ষতিগ্রস্থ করার চেষ্টা করবে না? বিশেষ করে যখন ক্রমাগত AI-নির্ভর হয়ে আপনি নিজের থেকে চিন্তা ও বিশ্লেষণ করার চর্চা অনেকাংশে ছেড়ে দিয়েছেন?
প্রত্যেকটা মানুষের নিজস্ব চিন্তাধারা আছে, নিজস্ব মতামত আছে। এবং সেটা কখনো আরেকজনের সাথে শতভাগ মিলবে না। সেখানে AI এর থেকে যদি আমরা নিজেদের মতামত সাজানো শুরু করি, ভ্যালিডেশন খোঁজা শুরু করি, তাহলে তো বিশাল সমস্যা। AI থেকে যদি আমরা নিজের কর্মপরিকল্পনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজিয়ে নিই, তাহলে সিরিয়াসলি, মানুষ হিসেবে এক্সিস্টেন্সিয়াল প্রশ্ন এইটা।
কাজেই সতর্কতা জরুরী, সবকিছুতে AI এর ফিডব্যাক নেয়া, সাজেশন নেয়া থেকে বিরত থাকা দরকার। মানুষের সাথে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মানুষকে গুরুত্ব দিন। AI এর সাথে আলাপচারিতা কখনো মানুষের সাথে আলাপের বিকল্প হতে পারে না, AI দিয়ে তৈরি লেখা কখনো মানবহৃদয় থেকে আসা লেখার সমতূল্য হতে পারে না। সেটা বাহ্যিকভাবে যতই অসাধারণ হোক।
একটি নিয়নবাতি পরিবেশনা