একটি সাইকোলজিক্যাল শক এবং নতুন করে জীবন ফিরে পাওয়া


প্রারম্ভিকতা

আপনি কেমন আছেন?
ঐ আরকি – সত্যি বলতে আসলে আপনি/আমি কখনোই ভালো থাকি না বরং যখন খারাপ থাকি তখনই কেবল ফিল করি যে “আগে বোধকরি ভালো ছিলাম” আর এমনি সময় ঐ বলার জন্যই বলা…

জীবন যন্ত্রণা

বস্তুতপক্ষে আমাদের জীবনে বিভিন্ন অবস্থা ও অবস্থান স্বাপেক্ষ নানান প্রতিকূলতা আর কত্তো রকমের ঝামেলা, দুঃখ-কষ্ট, হতাশা, ব্যর্থতা আর অপ্রাপ্তির গ্লানিতে ভুগতে ভুগতে আমরা নিজেরাই একটি গোলকধাঁধায় আটকে পড়ি; এটি এমনই এক অদৃশ্য গোলকধাঁধা যে তা হতে মুক্তির পথ খুঁজে বের করা এক প্রকার অসম্ভব প্রায় – এই গোলকধাঁধা অদৃশ্য হওয়ায় আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি না যে কখন আর কিভাবে আমরা আটকে গিয়েছি – হঠাৎ করেই অনুভূত হয় যে “নাহ আর পারছি না, এই ক্লান্ত জীবন হতে মুক্তি নিতে চাই”।

সাইকোলজিক্যালি এটা ডিপ্রেশনের একদম চূড়ান্ত পর্যায় যখন মানুষেরা সেই গোলকধাঁধা হতে মুক্তির উপায় হিসেবে সুইসাইডের মতো অবস্থায় উপনীত হয় (একপ্রকার বাধ্য হয় বলা চলে) – বিষয়টা নিজের কাছেই নিজেকে অপরাধী ভাবনায় সবকিছু হতে মুক্ত হওয়ার একটা দূর্নিবার ইচ্ছা…

ঠিক এই সময়টাতেই কি করা যায়?
কি করলে সত্যিই এই গোলকধাঁধার ভেতর না ঘুরে বরং সেটাকে ভেঙ্গে ফেলে একটা মুক্তির উপায় বাতালে দেওয়া যায় – এমন ভাবনাতে লেখনী; এখানে সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশনের এক্সট্রিম ইউটিলাইজেশান আছে তাই একটু সংবেদনশীল হতে পারে [ডিসক্লেইমার]।

মুক্তির উপায়

আপনি যদি আপনার জীবনের এমনি এক অবস্থায় পৌছে যান তাহলে সবার আগে আপনাকে দুটি বিষয়ে স্বীয় স্বীকার্য প্রদান করতে হবে :
(১) এটি একটি গোলকধাঁধা যেখানে আপনি যতোই ঘুরে ফিরে হাটেন কিংবা দৌড়ান না কেন সেখানে কোন মুক্তির উপায় পাবেন না, এখানে এমন কোন দরজা নেই যা হতে আপনি গোলকধাঁধা থেকে মুক্ত হতে পারবেন – সুতরাং আপনাকে সেটা ভেঙ্গেই মু্ক্তির আস্বাদন পেতে হবে।
এই কথাটা এতোটা গুরুত্ব দিয়ে এই কারনে বলা কেননা আমরা প্রায় সময়েই সমস্যার ভেতরে বাস করেই সমস্যা মুক্তির উপায় খুঁজি অথচ সমাধানটাই যেখানে আউট অব দ্যা বক্স।
এই মানসিকতা হলো অবসেসিভ ইম্পালসিভ ডিজঅর্ডারের মতোই – সেটাও আবার এতোটা জটিল যে ক্রনিকল ইমপ্যাক্টিভ; সুতরাং যেখানে আপনি নিজেই একটা “সমস্যা” সেখানে সমস্যার সমাধান একলা আপনি আপনার নিজের ভেতর হতে কখনোই পেতে পারেন না।
(২) এই সমস্যাটি আপনি নিজে নিজেই তৈরী করেছেন এটা মন হতে মেনে নিতে হবে।
হ্যা, হয়তো এই সমস্যার পেছনে নানান প্রভাবক ও নিয়ামক থাকতে পারে – বিভিন্ন পরিস্থিতি ও পরিবেশের কারনে আপনার ভেতর পরিবর্তন হতে পারে তাইবলে দোষ’কে ঢাকতে দোহায় টানার মতো অযুহাত দেওয়া চলবে না।
সত্যকে স্বীকার করতে হবে এবং সেই স্বীকার্যই আপনার সমাধানের প্রাথমিক উপায়। আমরা প্রায় সময়ই নিজের দোষ অন্যের কাঁধে দিয়ে এক প্রকার স্বান্তনা পেতে চাই যা কনক্লুশন হিসেবে কাজে দেয় – তবে এই দায় দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়াটাই আপনাকে আষ্টেপৃষ্টে আটকে রাখে সমস্যার অক্টোপাসে!

সাইকোলজিক্যাল শক

এই যে সমস্যার গোলকধাঁধা হতে মুক্ত হতে আপনাকে সবার আগে জাগাতে হবে – এই জাগরণ আপনার নিজের কাছেই নিজেকে পুনঃ আবিষ্কার করার মতোই। আপনার নিজেই নিজেকে জাস্টিফাই করতে হবে যাতে আপনার জীবন আসলে কি? জীবনের গুরুত্ব’টা কি? কেমন করে এই জীবনের মূল্যায়ন করা যায়? ঠিক কিভাবে আপনার নিজের জীবনের অবশিষ্ট সময়টাকে তাৎপর্যপূর্ণ এবং অর্থবহ করা যায়? – এই সকল প্রশ্নের উত্তর আপনার ভেতর হতে আপনাকে জানান দিয়ে যাবে।
এখন কথা হচ্ছে “আমরা যতোই পুঁথিগত জ্ঞান কিংবা বইয়ের সংজ্ঞা পড়ি না কেন বস্তুত আমরা ঠিক ততোক্ষণ অবধি কোন বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে ট্রিগার্ড হতে পারি না – যদিনা আমরা ঐ বিষয়টা সেল্ফ রিয়েলাইজ করাতে পারি”।
আপনি এই বিষয়টাকে এমনভাবেও ভাবতে পারেন যখন আপনি জেগে জেগে ঘুমাচ্ছেন – তাতে না তো সচেতনভাবে আপনি কিছু করছেন অথবা না তো পরিপূর্ণ অবচেতনে ঘুমুচ্ছেন; সবকিছুই সব কিছুর মতো ঠিক আছে কিন্তু আসলে যেন কিছুই ঠিক নেই….
হুমম, সবার আগে আপনাকে ঠিক হতে হবে আর এই ঠিক করার জন্য নিজের উপলব্ধি সক্ষমতা জাগ্রত করতে একটি সাইকোলজিক্যাল শক ইমপ্যাক্টিভ ভূমিকা পালন করবে।
সাইকোলজিক্যাল শক হলো এক প্রকার মানসিক চেতনা জাগানোর প্রয়াস যা নিজেকে এক্সট্রিম কন্ডিশনের চূড়ান্ত অবস্থায় নিয়ে গিয়ে সম্বিৎ ফিরে পাওয়া…
আচ্ছা উদাহরণের মাধ্যমে যদি বলতে হয় তাহলে বিষয়টা এমন যেন ” আপনি বাসে করে কোথাও যাচ্ছেন আর আপনার আপন ভাবনার জগতে নিমজ্জিত হয়ে হারিয়ে গিয়েছেন….. হঠাৎ করেই বাসের ব্রেকে আপনি যেন সম্বিৎ ফিরে পাচ্ছেন আর বাস্তবতায় ফিরে আসতে পারছেন”।

ট্যাকটিস

ট্যাকটিস বলার আগ মনে পড়ে গেলো বহু আগে দেখা উনলৌকিক সিরিজের এক ভয়ংকর মৃত্যুখেলা যেখানে চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত একজন মানুষ আরেক সাইকি সাইকিয়াট্রিস্ট এর পরামর্শে প্রতিবার মৃত্যু দুয়ার হতে ফিরে আসতে আসতে জীবনের মূল্য উপলব্ধি করতে পারে – একটুখানি শর্টক্লিপে চলুন সেই আবোহ উপভোগ করি; সাথে জীবনানন্দের জীবনের আনন্দের নির্লিপ্ত আবোহ….
[ভিডিও কনটেন্ট ফাইলের মেটা ডাটা মোডিফাইড করেছি যাতে পলিসিগত ইস্যুগত সমস্যা না থাকে]

 

চলুন এখন এমনি এক খেলার মাঝে আপনার জীবনের হতাশা আর দূর্দশার দীর্ঘশ্বাস নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে নিঃশেষ করে দিই….

সবার আগে খাতা কলমে আপনার জীবনের সকল সমস্যাগুলো একটি একটি পয়েন্ট আকারে লিখুন এরপর একটি ফাঁকা আবদ্ধ ঘরে গভীর রাতে নিজের সাথে নিজের জীবন জাগরনের সাইকোলজিক্যাল খেলায় মত্ত হউন [বিষয়টা শুধুই যে বিশেষ আবোহ তৈরীর জন্য বেছে নেওয়া তা নয় বরং গভীর রাতের কারন এমন পরিবেশ যাতে আপনি পরিপূর্ণ কনসেনট্রেশান গেইন করতে পারেন / নিঃশব্দ হওয়ার কারণ হলো এমন নিস্তবতা যেন তাতে আপনার নিঃশ্বাসের শব্দটা আপনার কানে পৌছে / একাকী বদ্ধ ঘর হওয়ার কারন যেন আপনি আপনার নিজের কাছেই নিজেকে ডেডিকেট বা উৎসর্গ করতে পারেন]।
আপাত অন্ধকার ঘরে কেবলমাত্র একটি জলন্ত মোমবাতি থাকবে এবং সামনে খাতা কলমে আপনার সেই সমস্ত পয়েন্ট আকারে লেখা নোটগুলো – এখন এক একটি সমস্যা নিয়ে আপনাকে ফোকাস হতে হবে এবং শান্ত ও রিলাক্স মাইন্ডে মোমবাতির শিখার দিকে মেডিটেটিভ মাইন্তে মনোযোগ দিতে হবে। বলা বাহুল্য যে এই সময়ে আপনি গভীরভাবে মানসিক প্রচ্ছন্নতায় ঢুবে যাবেন আর তখনই মনের দরজাতে কলিংবেল আপনার আটকে থাকা নিঃশ্বাস আপনাকে জাগিয়ে তুলবে…
প্র্যাকটিক্যালি এভাবে সাজিয়ে করা যায়:
সবার আগে আপনি আপনার একটি সমস্যা বাছাই করুন >>> এখন শান্ত ও গভীর মনে একাগ্রচিত্তে ঐ সমস্যার সমাধান কিংবা কনক্লুশন যেটাই হউক সেটাতে আপনাকে পৌছাতে হবে এমন মাইন্ডসেট করুন। তদুপরি ঐ কনক্লুশন এচিভ করার সাথে সাথে আপনি আপনার নিজের কাছে কমিটেড (প্রমিসিং মেন্টাল সেটআপ) থাকবেন সে আপনার জীবনে দ্বিতীয়বার আর ঐ বিষয় নিয়ে কখনোই ভাবতে পারবেন না (বিষয়টা এমন নয় যে আপনার ভাবনাতে আর কখনোই ঐ সমস্যাগুলো স্মরণ আসবে না – অবশ্যই আসবে, তবে আপনাকে এই শেষবারের মতো ঐসব সমস্যার কনক্লুশনে পৌছানের জন্য নিজেই নিজেকে অবকাশ দিচ্ছেন) >>> এই অবকাশ এমন হবে যেন প্রথমে আপনি আপনার সমস্যা বাছাই করুন (একটি একটি করে) – এখন গভীরভাবে বুক ভরে শ্বাস নিন এবং আটকে রাখুন – এইসাথে কল্পনাতে সমস্যাটি নিয়ে আপনার ভাবনাতে সমস্যার কনক্লুশনে পৌছাতে চেষ্টা করুন – আপনার দৃষ্টি শুধুমাত্র ঐ মোমবাতির শিখার দিকে থাকবে >>> এখন এই খেলার শর্ত অনুসারে আপনি যতোক্ষণ না অবধি কনক্লুশনে পৌছাতে পারবেন ততোক্ষণ ধরে দম আটকে রাখতে হবে এবং তখনই দম ছাড়তে পারবেন তখন ভাবনার জগৎ হতে সেই সমস্যাটির নিশ্চিত নিঃশেষ ঘটাতে পারছেন – কার্যত সিংহভাগ সমস্যার হয়তো মনের মতো করে সমাধান আসবে না তবুও যেহেতু পূর্ব হতেই কমিটেড তাই চূড়ান্ত মুহূর্তে আপনি যখন আর দম আটকে রাখতে পারছেন না তখন নিজেই নিজের কাছে হার মেনে মনের উপর আপন “বিজয়” লাভ করার এচিভমেন্ট গেইন করবেন >>> একইভাবে প্রতিবার আপনি প্রতিটি সমস্যার পয়েন্ট নিয়ে করতে থাকুন (প্রতি ১ বারে একটি সমস্যার নিঃশেষ নিশ্চিত করতে হবে)।

[এমনি Self Rehabilitational Environment একটি প্রোটোটাইপ ডেমোনেস্ট্রেশান হলো MindCrack যা কিনা এমন বদ্ধ ঘর এবং মোমবাতি না পেলেও ওয়েব এপ্লিকেশন মোবাইলের স্ক্রিনের জলন্ত মোমবাতি শিখার প্রতি মেডিটেটিভ ভাইবে আপন ভাবনায় কনসানট্রেশান এবং আপনার নিঃশ্বাস আপনিই যেন শুনতে পান সেটার জন্য ১.৫ সেকেন্ড বিরতিতে ফিরতি রি-কল অডিও সাউন্ডে নিঃশ্বাসের শব্দ ট্রাকিং নিশ্চিত করবে; অপরাপর টাইম কাউন্টিং এনিমেটেড ভাইব আপনাকে বাস্তবতাতে ফিরিয়ে আপনতে ঐ মুহূর্তের নিয়ত এলার্মিং করবে। গিটহাব ওপেন সোর্স এপ্লিকেশন https://humayunshariarhimu.github.io/MindCrack/ ]

ইফিসিয়েন্সি

আচ্ছা… এটাকে আপনার খেলা খেলা মনে হচ্ছে? খেলায় তো বটে – তবে এই মানসিক খেলার মাঝেই মুক্তির উপায় খুঁজে ফেরার চূড়ান্ত টাস্ক। তবে আপনার কাছে যদি নিতান্তপক্ষে তাচ্ছিল্যের মতো বিষয়টি শোনায় তবে সাইকোলজিক্যাল ইমপ্যাক্ট হাইলাইট হওয়া প্রয়োজন বটে।
(১) যখন আপনি এমন বিশেষ পরিবেশে নিজেই নিজের সাথে কনভারসেশন করছেন এবং নিজেকে ডেডিকেটেড করছেন – আদতে আপনি আপনার নিজের অস্তিত্ব’কে নিজের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।
(২) আপনি চাইলেই ভাবনার চেইনে আপনার অবান্তর দুঃশ্চিন্তাতে সময় দিতেই পারেন তবে ফিজিক্যালি কখনোই একটানা দম আটকে রাখতে পারবেন না – যেহেতু আপনি প্রমিসিং মেন্টালিটিতে প্রতিটি নিঃশ্বাসে ঐসব সমস্যার নিঃশেষ ঘটাতে কমিটেড তখন আক্ষরিকভাবেই সমস্যাগুলো সাবকনশিয়াস হতে কনশিয়াসলি নিজের ইচ্ছা অনিচ্ছার তোয়াক্কা ছাড়াই সমাপ্তি ঘটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
(৩) হয়তো এটাও মনে হতে পারে যে ঐসব সমস্যার ভাবনা আবারও পরদিন আপনার মস্তিষ্কে ফিরে আসবে; হ্যা, আসবে তো বটেই তবেই তখন ঐ অবচেতন ভাবনার বিপরীতে আপনার মস্তিষ্কের কনশিয়াসনেসের গাইড দাড়িয়ে যাবে।
অর্থাৎ হয় (ক) আপনি আপনার সমস্যার গোলকধাঁধা ভেঙ্গে বাইরে বের হবেন নয়তো (খ) নিজেই নিজের প্রতিজ্ঞার বিপরীতে হিপোক্রেসি করবেন; সুতরাং আপনার যুক্তিভিত্তিক মেন্টালিটিই আপনাকে স্ট্যামিনা যোগাবে সমস্যার পুলসেরাত পারাপরে।
(৪) এতোসব সমস্যার নিঃশেষে আপনি দম আটকে থাকতে থাকতে শারীরিকভাবে অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন [এতোদিন মানসিকভাবে ক্লান্ত ছিলেন] – আপনার মস্তিষ্ক স্বতন্ত্রভাবেই এই স্ট্যামিনা খরচের ফিডব্যাক বের করতে সাবকনশিয়াসকে প্রেসারাইজ করবে; ফলে যদিও শারীরিকভাবে ক্লান্ত তবুও মানসিকভাবে রিফ্রেশমেন্ট লাভ করবেন।
একটু অদ্ভুত শোনালেও এক্সরসিজম এর মতোই বিষয়টা যেখানে ভূত তাড়াতে ফিজিক্যালি সাইকোলজিক্যাল এনফোর্স ম্যানেজমেন্ট করা হয় [এক্সরসিজম কখনোই সাইকোলজির অংশ নয় তবে প্যারাসাইকোলজির ফ্যাক্ট – যদিও সাইকোলজিক্যাল বিশ্লেষণ তো করা যেতে পারে]।

কনক্লুশন

সবকিছুর পরেও একটা “পর” হয় তাইবলে আপনি নিজেকে নিজের কাছে পর করে কখনো আপন মনে মুক্তির উপায় পাবেন না – লালনের স্বীয় ভজন কিংবা সন্ন্যাসীর সিদ্ধি অর্জন সবটাই আসলে আত্মমুক্তি ভাবনা; সেই ভাবনার ভেতর দিয়েই চিন্তার মাধ্যমে আপনার দুঃশ্চিতার অবসান ঘটিয়ে সাইকোলজিক্যাল শকে শুরু হউক আপনার এক নতুন জীবন!
শুভকামনা রইলো।
টেলিগ্রাম আমন্ত্রণ : OpenEye


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Thank's for visiting me!

X