এই লেখাটি যথাসম্ভব নিউট্রাল অবস্থান থেকে শুধুমাত্র একটি স্পেশাল সাইকোলজিক্যাল টার্মকে বিশেষায়িত করে লেখা – এটি না তো ধর্মীয় কোন দিক’কে মোটিভ করবে আবার না তো ট্রাডিশনাল সায়েন্সের রেফারেন্সে পক্ষপাতিত্ব করা হবে।
এটি একদিকে “বিশ্বাস” বিশেষায়িত বিষয় – অন্যদিকে সাইকোলজিক্যাল পারসেপশান হতে স্পেসিফাইড করা হবে।

হস্তমৈথুন কি?
উহু…আমি এটার সংজ্ঞা না বললেও আপনি ঠিকই বুঝতে পারছেন এটা কি জিনিস? আপনি হয়তো ভাবছেন আমি রসালো আলাপ নিয়ে শুরু করছি। একদমই না!
আপনি যদি মনে করেন “একটি শিশুকে আপনি জন্মের পর হতে একদম একাকী করে বদ্ধ ঘরে আবদ্ধ করে রাখেন তাহলে সে বয়োসন্ধিকালে সে কি জৈবিক চাহিদা বুঝবে না?”
অবশ্যই বুঝবে এবং একাকী থাকার পরও সে তার জৈবিক চাহিদা পূরণে আপনা আপনিই কোন একটি ব্যবস্থাতে আপন কামনা মেটাবে।
এটি আমাদের DNA এর কালচারে বিবর্তনীয় আকারে কোড কালচারে – মানুষ মাত্রই বিদ্যমান।
সুতরাং জৈবিক চাহিদা মেটাতে এই হস্তমৈথুন বিষয়টি একদমই সাধারণ একটি মানব প্রাকৃতিক বিষয়। শুধু যে মানুষের মাঝেই এমন আচরণ পরিলক্ষিত হয় তা নয় বরং এটি বিভিন্ন প্রাণীর মাঝেও পরিলক্ষিত হয় যেমন চিম্পাঞ্জি, বোনোবো, ম্যাকাক বানর, ওরাংওটাং, ডলফিন, হাতি ইত্যাদি।
তথাপি প্রথাগত সংজ্ঞা অনুসারে “হস্তমৈথুন হলো নিজের শরীর নিজেই স্পর্শ বা উদ্দীপিত করার মাধ্যমে যৌন উত্তেজনা ও আনন্দ অনুভব করা। সাধারণত এটি হাত বা অন্য কোনো উপায়ে করা হয় এবং এর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়”।
বিজ্ঞান কি বলে?
যদি একদম ট্রাডিশনাল সায়েন্স অনুসারে বলতে হয় হস্তমৈথুন সম্পর্কে বিজ্ঞান ভিত্তিক ধারনা “হস্তমৈথুন খুবই স্বভাবিক ও প্রাকৃতিক বিষয়” – তদুপরি প্রাকৃতিক হওয়ার দরূণ এটিতে স্বাস্থ্যগত কোন নেগেটিভিটি নেই যদিনা সেটা নিয়ত অভ্যাসগত কারনে অতিরিক্ত আসক্তির হেতু হয়। অপরাপর এটি যদি নিয়ত স্বাভাবিক কারণে না হয় তবে শারীরিকভাবে ঘুমের মাধ্যমে স্বপ্নের মাধ্যমে রিলিজেশান ঘটতে পারে এবং টেস্টোস্টেরন হরমোনের হেতু ফিজিক্যালি স্পার্ম রিপ্রোডাকশন ব্যালেন্স হয়ে যায়।
এই হস্তমৈথুন যেমন স্বাভাবিক বিষয় তাতে হস্তমৈথুন করাটাও স্বাভাবিক এবং না করাটাও অস্বাভাবিক নয়।
আসলে বিজ্ঞানের নামে অপবিজ্ঞান বেশী ছড়ায় তাই এখানে পিয়ার রিভিউড জার্নাল লিংক দেওয়া হলো
https://www.mdpi.com/2227-9032/12/2/235
https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/11760788/
[পিয়ার রিভিউড জার্নাল এবং সাইটেশান চেক করা হয়েছে]
বিশেষ সাইকোলজি এবং ইমোশনাল ড্যামেজ
এটিই আসলে এই লেখার মূল সাবজেক্ট যেখানে স্পেশাল সাইকোলজি (আসলে এটি সাইকোজেনিক ফোনোমেনা) নিয়ে আলোচনা করা হবে।
মূলত পুরুষদের জৈবিক প্রবৃত্তির অন্যতম নিয়ামক হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন – অন্যদিকে স্বাভাবিক উদ্দীপক হরমোন হলো ডোপামিন, সেরোটোনিন ইত্যাদি। আবার যখন রাগ বা হিংসা কিংবা ডিপ্রেশন বা ফ্রাস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সেই ডোপামিন লেভেল অনেক নিচে নেমে যায় এবং সেখানে কার্টিসল খানিক বেড়ে যায় (মূলত এটাকে মন খারাপের হরমোন তো বলা যায় না তবুও প্রাকৃতিকভাবে Fight Or Flight মোডে এটার নিঃসরণ খানিক বাড়ে)।
যদিও বিজ্ঞান বলে যে হস্তমৈথুন প্রাকৃতিক এবং তাতে হিউম্যান ব্রেইন রিলাক্সেশান ফিলে ডোপামিন নিঃসৃত হয় এবং ভালো লাগার অনুভূতি তৈরী হয়; এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যখন ডোপামিন লেভেল হ্রাস পায় এবং ক্ষণিক ক্লান্তিতে অবসাদগ্রস্থ হয় তখন আমাদের মাঝের যদি “বিশ্বাসগত আচরণে হস্তমৈথুন একটি বাজে বিষয় এবং সেটি পাপ” তখনই আসলে মস্তিষ্ক ট্রিগার করে এবং কার্টিসলের কিছুটা রিলিজ করে (মস্তিষ্কের অটোমেটেড সেল্ফ ডিফেন্সিভ মেকানিজম) – আর এখনই ঘটে ইমোশন্যাল ড্যামেজ!
এই ইমোশনাল ড্যামেজের স্বরূপ কি হয়?
কগনিটিভ ডিসোন্যান্স (Cognitive Dissonance): একদিকে হস্তমৈথুন জৈবিকভাবে স্বাভাবিক ও আনন্দদায়ক হিসেবে মস্তিষ্কে ফিলিংস ছড়ায় অন্যদিকে বিশ্বাসগতভাবে ভুল/অপরাধ/পাপ হিসেবে ট্রিগার হয় – এই দুই বিপরীত মানসিক ফ্রেম একসাথে সক্রিয় হলে মস্তিষ্কে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ফলে (১) নিজেকে নিয়ে অস্বস্তি লাগে তাতে “আমি ঠিক ভালো মানুষ না” টাইপ চিন্তা চলে আসে। (২) আত্মমূল্যায়নের সাময়িক পতন ঘটে – ফলে আপনার ভেতর চলে আসে ফ্রাস্ট্রেশন ও ডিপ্রেশন।
পোস্ট-ডোপামিন ড্রপ + বিশ্বাস-ট্রিগার : হস্তমৈথুনের সময় ডোপামিন বাড়ে এবং শেষ হলে স্বাভাবিকভাবেই কমে; এই স্বাভাবিক ডোপামিন ড্রপ এর মুহূর্তে যদি বিশ্বাসগতভাবে “এটা খারাপ” ট্রিগার হয়, তখন অ্যামিগডালা (ভয়ের কেন্দ্র) সক্রিয় হয় এবং কর্টিসল কিছুটা বেড়ে যাবে ফলে ব্রেইন এটাকে থ্রেট/ভুল আচরণ হিসেবে ট্যাগ করে ফলাফল আপনি (১) অপরাধবোধ (২) নিজের কাছে লজ্জা ও হীনমন্যতাতে ভুগবেন (৩) অকারণ মন খারাপের সূচনা ঘটাবে – যা মুড সুয়িং এর কারণ হবে।
শেইম-লুপ (Shame Loop) : এখন যখন এই অভিজ্ঞতা বারবার ঘটবে তখন “হস্তমৈথুন → সাময়িক ভালো লাগা → বিশ্বাসগত অপরাধবোধ → নিজেকে দোষারোপ → আবার স্ট্রেস → আবার রিলিজ খোঁজা” ফলে শেইম-ডোপামিন লুপ তৈরি হয়; যার ফলে আপনি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি সৃষ্টি হবে এবং “আমি দুর্বল” এই আইডেন্টিটি তৈরী হবে [মানসিকভাবে] – সবিশেষ আত্মসম্মান (Self-esteem) ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে হতে আপনি একটা সময় নিজেকে নিজের নিকট হতে একদম একা ও বিছিন্ন বলে আবিষ্কার করবেন।
নোট: ঠিক এই মুহূর্তেই আপনার মানসিক দূর্বলতার এমন স্থান যখন নিজেই নিজেকে নিঃশোষিত হিসেবে আবিষ্কার করছেন – আপনার মাঝে সাইকোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার বাসা বাধা শুরু করবে।
ইমোশনাল কন্ডিশনিং এন্ড ফিজিক্যাল কনফিউশান : হস্তমৈথুনের পর সময় গেলে মস্তিষ্ক কন্ডিশনড হয়ে যায় ঠিকই তবে আপনার মস্তিষ্কে গেঁথে যাবে এক অনন্য অবাস্তব ব্যাধি যা ক্রনিক্যালি “শারীরিক উত্তেজনা = অপরাধ এবং আনন্দ = শাস্তিযোগ্য অনুভূতি” তাতে Classical Conditioning সেট হয়ে যাবে। ফলাফলে আপনি আনন্দ উপভোগে অপরাধবোধে ভুগবেন, ঘনিষ্ঠতা বা যৌনতা নিয়ে অযথা উদ্বেগ সৃষ্টি হবে এবং জীবনসঙ্গীর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইমোশনাল ব্লক তৈরি করবে।
নোট: এই বিষয়টা শুনতে যতোটা সহজ আদতে বাস্তবে ততোটাই কঠিন। আমরা আমাদের সমাজে “পুরুষের গোপন দূর্বলতা” শুনে থাকি – বস্তুত পক্ষে এটি আসলে কখনোই ফাংশানাল কোন রোগই নয় বরং সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশন। অর্থাৎ আপনার মস্তিষ্কে যে ভয় ও পাপ এর বীজ সেটআপ হয়েছে তাতেই সে ট্রিগার করছে – ফলে যতোই আপনার কাছে বিজ্ঞানের পিয়ার রিভিউড জার্নাল এনে দিই না কেন বস্তুত আপনি বাস্তবে দেখছেন সত্যিই আপনি দূর্বলতা আছে – সুতরাং আপনিই সেটাকেই দায়ী করবেন যার কারনে আপনার মস্তিষ্ক ইতিপূর্বে ট্রিগার হতে হতে এখন সেটাই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
আয়না
যদি এই সকল বিষয়গুলো যা আপনার মস্তিষ্ক বিশ্বাস আর যুক্তির কনফ্লিক্টে হরমোন্যাল ট্রিগারে গন্ডগোল পাকিয়েছে সেটাকে মিরর করা হয় তবে কি দেখবেন জানেন?
আপনি আসলে আপনার আপন আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগবেন। আপনার সবসময় মনে হবে “আমি আমিই…না আমি এটা নই…নাহ, এটাই যে আমি” এই আচরণে আপনি নিজেকেই খারাপ ভাবা শুরু করবেন। এরপর এখানেই কিন্তু শেষ নয়…
এই খারাপ ভাবনাটা যখন আপনার মস্তিষ্ক খারাপ হিসেবে “বাই ডিফল্ট” সেট করে নিবে তখন আপনিই হয়ে উঠবেন একটা পিউর লেভেলের “ডেভিল” অর্থাৎ আপনি বাইরে একরকম আর ভেতরে ভেতরে আরেক রকম।
উদাহরণ দিবো?
আপনি হয়তো আপনার মা/বোন এর জন্য একরকম পারিবারিক পুরুষ (সন্তান ও ভাই) তবে সেই আপনিই রাস্তায় চূড়ান্ত অবকাশে অচেনা আপনার ভেতরের সেই সুপ্ত ‘আপনি” ফুটে উঠলে বাজে নজরে স্যাটিসফেকশান খুজতে থাকবেন।
এই আপনিই ধর্মীয় ওয়াজে মশগুল হলেও নিয়ত গোপন সময়ে অসুস্থ ভিডিও তথা পর্ণোগ্রাফিক আচরণে সুখ খুঁজবেন।
নোট: এখনও আপনি জানেন যে সেটা খারাপ তবে সেই খারাপটা মস্তিষ্কে স্বাভাবিক হিসেবে সেটআপ থাকায় তখন সেটাতে আদৌ রেস্ট্রিকশন কাজ করবে না – আপনি হারিয়ে যেতে থাকবেন অতলের অতল গহৃবরে!
এরপরও আরও অনেক কিছু আছে সেসব বলটা সংগত হবে না হয়তো তবে চূড়ান্ত ফলাফল (সবার ক্ষেত্রে নয়) আত্মাহীনতায় ভোগা এক অতৃপ্ত পুরুষ যার বিকৃত রুচির ফ্রাস্ট্রেশন কেবলি অনর্থ ঘটিয়ে স্বান্তনা লাভ!
এখানে অতিরঞ্জিত কোন বিষয়ের অবকাশ ঘটানো হয়নি বরং সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশনস ওয়াইজ একটি স্পেসিফিক বিষয়ে ফলোআপ করা হয়েছে – ফ্যাক্ট ওয়াইজ রিসার্চ জার্নাল পর্যালোচনা করতে পারেন এবং ক্রস ভেরিফাই করা যেতে পারে।
তবে শেষ কথাতে আপনি যদি বলেন “হস্তমৈথুন ঠিক নাকি বেঠিক?” তবে সেটা বলার আদৌ এখতিয়ার আমি রাখি না; আমি এতোটুকু ক্ল্যারিটি দিতে পারি সেক্সুয়ালিটি কোন ট্যাবু নয় তাই নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করায় শ্রেয় – এরচেয়েও বেশী প্রয়োজন যেটা তা হলো “সঠিক শিক্ষা” যা কিনা আপনার মনের অহেতুক জড়তা ভেঙে দিয়ে আপনাকে সাইকোলজিক্যালি কনক্রিটের মতো সলিড করে তুলবে।
এই যে আপনি “হস্তমৈথুন” শুনেই ট্রিগার্ড হচ্ছেন এটাই আপনার ভুল – এই “ভুল” টা “ভালো” মনে করে মস্তিষ্কে গেঁথে নিচ্ছেন এবং সেই ভ্যাকুয়ামে স্থান করে নিচ্ছে নানান কুশিক্ষা; তাতেই আপনি মানসিকভাবে অসুস্থ হবেন; সুতরাং নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সঠিক শিক্ষাতে দীক্ষা নেওয়া প্রয়োজন বৈকি।
সাইকোলজিক্যালি আপনি সুস্থ ও সুখী হউন সেই শুভকামনা রইলো।
টেলিগ্রাম আমন্ত্রণ রইলো: OpenEye
