
ফেসবুকের সক্ষমতা যে ভার্চুয়াল লাইফ হতে বাস্তব জীবনে কতোটা কার্যকরী সেটা আমরা সবাই জানি। অতীতে যেমন আমরা দেখতাম অমুক তমুক সেলিব্রিটির পোস্টে হাজার হাজার লাইক আর শতশত কমেন্টে কেমন ফেমাস তকমা পেতেন – তেমনি এই সময়ে তো অনলাইন বিজন্যসের ই-কমার্সের সিংহভাগ জুড়েই এফ-কমার্সের আধিপত্য!
যাই হউক – অতীতের হাতে লেখা পোস্ট হতে ফটো আর ভিডিও সেকশনের পরবর্তী শক্তিশালী একটা সোস্যাল টুল হয়ে দাড়িয়েছে “ফেসবুক লাইভ”।
বোঝার সুবিধার্থে উদাহরণস্বরূপ “পরীমনির লাইভ” এই কিওয়ার্ড (কি-ফ্রেইস) নানান সময়ে ফেসবুক সার্চের ট্রেন্ড জুড়ে ছিলো একসময়; আবার আজকের ভাইরাল মিজান হতে কেক বিক্রেতা ভাইয়া – আপু (ভাইয়াপু) সকলেই ফেসবুক ভিডিও এর কল্যানে এতোটা প্রচার ও প্রাসারে পয়াদা হয়েছে [পয়দা শব্দটা শুনতে শ্রুতিকটু তবে কটুকৃত্তি হতেই যে ফেসবুক লগারিদমে আমরা তাদের রিচ করাই সেটিও পরোক্ষভাবে সত্য]।
যাই হউক এই ফেসবুক ভিডিও এর লাইভ সেকশন অর্থাৎ Facebook Live যে কতোটা শক্তিশালী টুল সেটা হয়তো আমরা জেনেও জানি না!
কেননা প্রথমত ফেসবুক লাইভে পোস্ট অপেক্ষা ভিডিওতে তুলনামূলক অধিক এনগেইজ হওয়া – লাইভ (এই মুহুর্তে চলমান) বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে সবার তীব্র আগ্রহ – লাইভে যেকোন কোন মন্তব্য সরাসরি মূল বিষয়ের “কর্তা” কর্তৃক রিচ হওয়া ইত্যাদি।
একটু কঠিন লাগলেও সহজ করে বলি – আপনি আপনার ফেসবুকে পোস্ট লিখে কিংবা আপাত রিলস ভিডিও করে যতোটা না রিচ গেইন করে সোস্যাল ইনফ্লুয়েঞ্জ গেইন করতে পারবেন তারও অধিক ইফিসিয়েন্সি পেতে পারেন ফেসবুক লাইভ এর মাধ্যমে – এটা ইনস্ট্যান্ট ইফেক্টিভ।
ধরুন কেউ আপনার সাথে দূর্নীতি করছে বা করতে চাইছে [উদাহরণস্বরূপ না হয় একজন ঘুষখোর পুলিশ কর্মকর্তার কথা কল্পনা করা যাক – যিনি আপনার নিকট ঘুষ চাইছেন] – তৎক্ষণাৎ আপনি আপনার মোবাইলের ফেসবুক এপ খুলে লাইভ শুরু করে দিলে দেখবেন অপরপক্ষের রূপ একদম বদলে গিয়েছে!
শুধু যে ইথিক্যাল বিষয় তা নয় বরং “লাইভ” করার এক হুমকি সাইবার জগতে সোস্যাল লাইফ কতোটা ভয়ংকর তা আমরা ইদানীংকালের বহু ঘটনা হতেই জেনেছি – উদাহরণস্বরূপ ৫০১ নং কক্ষের হুজুর [ওয়েট…আমি এখানে কাউকে জাস্টিফাই করছি না বরং ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু বা Root কিভাবে ডালপালা বিস্তার করে এক হুজুরের জীবন ম্রিয়মাণ করেছিলো সেটা বোঝাতেই প্রসঙ্গত উদাহরণ নিয়ে আসা; এতে এতো তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে জ্বালার প্রয়োজন নেই]। সুতরাং ফেসবুকের এই সোস্যাল মিডিয়ার Live বিষয়টা আমাদের Life এর জন্য কতোটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে সেটা একটু মাথা খাটালেই বুদ্ধি আর কুবুদ্ধি দুইটাই জন্মে যাবে….
আচ্ছা এখানে একটি বড় প্রশ্ন এসে দাড়ায় যে এমন কার্যকরী ফেসবুক লাইভ করতে যতোটা এনগেজমেন্ট দরকার সেটা তো আপনার নেই; অর্থাৎ একটা ফেসবুক লাইভ যা সোস্যাল টুল হিসেবে আপনার স্বার্থ সিদ্ধি করাতে পারে এমনটাতে দরকার প্রচুর পরিমানে লাইভ অডিয়েন্স – যারা ওয়াচিং করবে এবং আপনার স্বার্থ রক্ষার মতো উপযোগী করে কমেন্ট করবে। এখানেই Mind Hacking এর অন্যতম ইলিমেন্ট Social Engeniering কাজে লাগানো যায়। ফেসবুক লাইভের মতোই হুবহু ক্লোন একটি ওয়েব এপ্লিকেশন যা কিনা আপনার ডিভাইসে ব্যাক/ফন্ট ক্যামেরা এক্সেস করে মক (Mock) অডিয়েন্স (লাইভ ওয়াচিং ভিউয়ার) + কাস্টমাইজড কমেন্ট + রিএ্যাক্ট ইত্যাদি।
উপরন্তু বিষয়টা ক্লোনিং শুধুমাত্র UI নয় বরং টোটাল ফাংশানটাই ভিজ্যুয়ালি সেইম-টু-সেইম হতে হবে – তাতেই না আপনার উদ্দেশ্য সাকসেসফুল হবে :-/
এমনই একটি প্রজেক্ট হলো FbLive যা খুব সাধারণ একটি ওয়েব এপ্লিকেশন’ই হয়ে উঠতে পারে অভাবনীয় সক্ষমতার এক দারূণ সোস্যাল হ্যাকিং টুল। ওয়েব এপ্লিকেশন’টি আপনি সরাসরি লিংকে এক্সেস করে আপনার ব্রাউজারের ক্যামেরা পারমিশন এলাও করে (ফন্ট/ব্যাক মোডে সুইচিং করতে পারেন) স্রেফ মোবাইলটি আপনার পারিপার্শ্বিক ঘটনার সামনে তুলে ধরবেন (ঠিক আয়নার মতো) যেখানে আপনি যেভাবে চাইবেন ঘটনা হতে ইফেক্টিভিটি গেইন করতে সেভাবেই আগে হতে কমেন্ট ও রিএ্যাক্ট কাস্টমাইজ করে নিবেন (সামান্য জাভাস্ক্রিপ্টের কারসাজি) – ব্যাস, ভাইরাল নামক ভাইরাস আশঙ্কা কি অতঙ্কে আপনার স্বার্থ সিদ্ধি!
কি হে….বড়ই আনইথিক্যাল মনে হচ্ছে?
তা তো বটেই – তথাপি ডার্ক সাইকোলজির জগত আপনার কল্পনায় চোখ বন্ধ করা অন্ধকারের চেয়েও আর গভীর কালো; একটু শুধু ব্রেইনের বন্ধ দুয়ায় খুললেই হয়।
তথাপি এটা হতে আপনি কেবলি খারাপ বিষয়ে স্বার্থ সিদ্ধি নয় বরং সমাজের নানান দূর্নীতি ও অপকর্ম বন্ধেও কাজে লাগাতে পারেন – এটি আপনার জন্য একটি সুরক্ষা নাইফের মতোই; আপনি যেমন ইচ্ছা তেমনি ব্যবহার করতে পারেন।
আর হ্যা, এটি গিটহাব ওপেন রিসোর্স তাই এখানে সেনসেটিভ কোন ডাটা ব্যাকএন্ডে রাখা হয়না সেটি সহজেই কোড এনালাইসিস করে ভেরিফাই করতে পারেন [ গিট রিপোজিটরী লিংক https://github.com/HumayunShariarHimu/FbLive ] – আর আপনার প্রয়োজন মতো সেটাকে আরও অধিক অপ্টিমাইজড বা রেসপন্সিভ করতে মোডিফাই করতে পারেন।
আপনি যদি বিষয়টাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চান তাহলে ওয়েব এপ্লিকেশন’টিকে এনড্রোয়েড ওয়েব ভিউ বা ন্যাটিভ এপ্লিকেশনেও কনভার্ট করে নিতে পারেন (তাতে অফলাইনেও এটা সব সময় আপনার কাজের জন্য রেডী থাকবে)।
সুতরাং?
সুতরাং আরকি – বুদ্ধির বন্ধন খুলুন; একটু সাইকোলজি’ই হতে পারে আপনার জীবনের নানান সমস্যা সমাধানের অনেকখানি সলিউশন; শুধুমাত্র নৈতিকতা রেখে পলিউশন না করলেই হলো।
মন চাইলে টেলিগ্রাম চ্যানেলে আমন্ত্রণ গ্রহন করতে পারেন OpenEye
শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো সত্যি সত্যিই – সেখানে অন্তত Mock নেই 🙂
