বিকাশ, রকেট, নগদ, উপায় দিয়ে মেট্রো র‍্যাপিড পাস ও MRT পাস রিচার্জ করুন খুব সহজেই


আসসালামু আলাইকুম

আশা করি সকলেই অনেক ভালো আছেন। আজ অনেকদিন পর আপনাদের মাঝে আরেকটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হলাম। আর আজকে কি নিয়ে আর্টিকেল টি লেখা তা হয়তো টাইটেল দেখেই বুঝে গেছেন। তো কথা না বাড়িয়ে আমরা সামনের দিকে আগাই।

যারা ঢাকায় থাকি তাদের মধ্য অনেকেই ইতিমধ্য মেট্রোরেল এ যাতায়াত করেছেন। যদিও বাস এর তুলনায় ভাড়া অনেকটায় বেশি পড়ে মেট্রোর টিকিট কাটতে কিন্তু সময় বাচে অনেকটা। তাই এখন অনেকেই এখন বাস ছেড়ে মেট্রোরেল ব্যবহার করেন। কিন্তু এই সময় বাচাতে মেট্রোরেল ব্যবহার করার সময় টিকিট কাটতে গিয়ে যখন দেখেন লম্বা একটি লাইন তখন আবারো ভাবতে হয় এই লাইনে দাড়াবো নাকি বাসে করে চলে যাবো!

বিশেষ করে ছুটির দিন, অফিস টাইম, স্কুল – কলেজ – ভার্সিটি টাইম, কোনো বিশেষ দিন (ঈদ, পহেলা বৈশাখ, পূজা ইত্যাদি) সময় টিকিট এর লাইন যে কতটা লম্বা হয় সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যারা এই সময়টা ফেস করেছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন এই সম্পর্কে। এই লম্বা লাইনেই অনেক সময় ৩০ মিনিট – ১ঘন্টা চলে যায়। তার মাঝে আবার যদি টিকিট মেশিনে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় তাহলে আরো ১০ মিনিট শেষ।

তো এই সমস্যা থেকে বাচার জন্য এক মাত্র উপায় হলো র‍্যাপিড পাস এবং এমআরটি পাস (MRT pass)। আপনি যদি আগে থেকে একটি র‍্যাপিড পাস কিনে ফেলেন তাহলে বার বার আর টিকিট কাটতে হবে না বরং একই র‍্যাপিড পাস আপনি বার বার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অবশ্যই সেটায় ব্যালেন্স থাকতে হবে। এর জন্য অনেকেই হয়তো র‍্যাপিড পাস কিনে রেখেছেন।

তবে এখানেও একটা বড় সমস্যা যে, ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে সেটায় আবার ব্যালেন্স ভরার জন্য আপনাকে মেট্রো স্টেশনে গিয়ে সেখানকার কার্যরত লোককে দিয়েই সেটা করতে হতো। তবে প্রায় ১ থেকে দেড় মাস আগে থেকে নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে যার মাধ্যমে আপনি মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ, উপায় ইত্যাদি), কার্ড ইত্যাদির মাধ্যমে পেমেন্ট করে র‍্যাপিড পাস বা MRT পাস এ রিচার্জ কর‍তে পারবেন। আজকে সেটাই দেখাবো কিভাবে আপনারা এটা করবেন।

 

মেট্রো র‍্যাপিড পাস ও এমআরটি পাস রিচার্জ

আপনি যদি মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে রিচার্জ করতে চান তাহলে আপনি যে মোবাইল ব্যাংকিং টা ইউজ করবেন সেটার এপ ওপেন করবেন। এপ এ গেলে একটু উপর নিচ স্ক্রল করলে “মেট্রোরেল” অপশন পাবেন। সেটাতে ক্লিক করলে র‍্যাপিড পাস এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নিয়ে যাবে। যদি অত ঝামেলা করতে না চান তাহলে সরাসরি নিচের লিংক থেকেও একই ওয়েবসাইটে যেতে পারবেন। নিচে লিংক দিয়ে দিলাম।

Rapid Pass Website

তো রিচার্জ করার আগে আমাদের একাউন্ট খুলতে হবে এবং আমাদের কার্ড এড করতে হবে এই ওয়েবসাইটে। সেটার পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো।

র‍্যাপিড পাস ওয়েবসাইটে একাউন্ট খোলার ও কার্ড যুক্ত করার পদ্ধতি

১. উপরের লিংক এ যাওয়ার পর নিচের মতো আসবে। সেখান থেকে প্রথমেই আপনাকে একটা একাউন্ট খুলতে হবে। এর জন্য সাইন আপ লেখায় ক্লিক দিবেন। (আগে থেকে একাউন্ট করা থাকলে লগ ইন করলেই হবে)

 

 

২. এরপর আপনার কাছে আপনার নাম, মোবাইল নাম্বার, ইমেইল, পাসওয়ার্ড ও কনফর্ম পাসওয়ার্ড চাইবে সব ঠিক ঠাক দিয়ে দিবেন। (আশা করি এটা আপনারাই পারবেন)

 

 

৩. উপরের সব ফর্ম ফিল আপ করে নিচে নামলে Sign Up বাটন পাবেন। সেটায় ক্লিক করে দিবেন।

 

 

৪. এরপর নিচের মতো আসবে। সাইন আপ করার সময় যে মোবাইল নাম্বার দিয়েছিলেন সেটায় একটা কোড যাবে। সেই কোড এখানে দিয়ে দিবেন।

 

 

৫. সব ঠিক ঠাক হলে নিচের মতো আসবে। এবার ইমেইল ভেরিফাই করতে হবে। সে জন্য নিচের স্ক্রিনশট এ দেখানো যায়গায় ক্লিক করুন।

 

 

৬. এরপর ইমেইল এ কোড গেলে তা দিয়ে ভেরিফাই করে নিন।

 

 

৭. এবার আপনাকে আবার হোমপেজ এ নিয়ে আসবে। এবার আমাদের র‍্যাপিড পাস বা MRT Pass কার্ডটা এখানে এড করতে হবে। তো এর জন্য Register Card এ ক্লিক করুন।

 

 

৮. এরপর আপনার কাছে আপনার কার্ড এর নাম্বার চাইবে। তো এই নাম্বারটি আপনি আপনার কার্ড এর পেছন দিকে পাবেন। নাম্বারটি RPxxxxxxxxxx এমন হবে। সেটা এখানে লিখে দিবেন। (কোনো স্পেস দিবেন না) এরপর Verify Now ক্লিক দিবেন।

 

 

৯. তারপর আপনাকে একটা ফর্ম ফিল আপ করতে বলবে। সেখানে ১ম ২ টি বক্স আগে থেকেই ফিল আপ থাকবে। তো পরের গুলোতে,

• আপনার নাম (ইংরেজিতে)
• আপনার বাবার নাম
• মায়ের নাম
• জন্ম তারিখ
• লিঙ্গ (ছেলে না মেয়ে)
• আইডি (আইডিতে NID, Passport, Dirving Licence, Birth Certificate ইত্যাদি অপশন থাকবে, আপনার কাছে যেটা থাকবে সেটা সিলেক্ট করবেন।)
• যে আইডি সিলেক্ট করলেন সেটার নাম্বার
• জাতীয়তা (দেওয়া থাকবে)
• প্রফেশন (অর্থাৎ কি কাজ করেন)
• ঠিকানা

এগুলো দিয়ে নিচে Add Card অপশনে ক্লিক দিবেন।

১০. এরপর নিচের মতো আসবে। এখানে বলে হয়েছে আপনার কার্ড এড হয়েছে। তবে সেটা পেন্ডিং আছে। তবে ৭২ ঘন্টার মধ্য কার্ড ভেরিফাই হয়ে এপ্রুভ হয়ে যাবে (সব তথ্য ঠিক থাকলে) এখান থেকে Go To Dashboard এ ক্লিক করে হোম পেজ এ চলে আসুন।

 

 

র‍্যাপিড পাস ও MRT Pass রিচার্জের নিয়ম

কার্ড ঠিকভাবে যুক্ত করার পর সেটা এপ্রুভ হয়ে গেলে আপনারা রিচার্জ করতে পারবেন। এর জন্য নিচের নিয়ম ফলো করুন।

১. হোম পেজ এর মেনু অপশনে ক্লিক করুন।

 

 

২. রিচার্জ অপশনে ক্লিক করুন।

 

 

৩. নিচের মতো আসলে বক্সটিতে ক্লিক করলে আপনি যত কার্ড এড করেছেন সব শো করবে। সেখান থেকে যেটায় রিচার্জ করতে চান সেটা সিলেক্ট করে ওকে করুন।

 

 

 

৪. নতুন পেজ আসলে একটু নিচের দিকে স্ক্রল করলে নিচের মতো পাবেন। সেখান থেকে টাকার পরিমাণ সিলেক্ট করে চিহ্নিত যায়গায় ক্লিক করুন।

 

 

৫. এরপর পেমেন্ট পেজ এ নিয়ে যাবে। সেখান থেকে মোবাইল ব্যাংকিং সিলেক্ট করুন। এরপর যে মাধ্যমে কর‍তে চান সেটায় ক্লিক করে Pay বাটনে ক্লিক করুন।

 

 

৬. বিকাশ, রকেট, নগদ, উপায় যেকোনোটা সিলেক্ট করলে পরের পেজ এ ১ম এ আপনি যে নাম্বার দিয়ে পেমেন্ট করবেন সেই নাম্বার দিবেন।

৭. তারপর সেই নাম্বারে একটা কোড যাবে কোড দিবেন।

৮. আপনার একাউন্ট পিন নাম্বার দিবেন।

৯. লাস্টে কনফর্ম বাটন আসলে কনফর্ম এ ক্লিক দিবেন।

দাড়ান! এখানেই শেষ না। আপনি আপনার কার্ডে টাকা ট্রান্সফার করেছেন তবে লাস্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয় নি। আপনাকে অবশ্যই কার্ডে এভাবে টাকা ঢোকানোর পর আশেপাশের যেকোনো মেট্রো স্ট্রেশনে যেতে হবে। এবং যাওয়ার পর ভেন্ডিং মেশিন (টিকিট কাটার মেশিন) এর পাশে নিচের বাম পাশের ছবির মতো একটা ছোট মেশিন পাবেন, সেখানে কার্ড টা পাঞ্চ করতে করতে হবে (নিচের ডান পাশের ছবির মতো)। এটা না করলে কিন্তু রিচার্জ সম্পূর্ণ হবে না।

 

শেষ কথা

তো এই ছিলো আজকের পোস্ট। আশা করবো আপনাদের উপকারে আসবে। আর আমি অনেকদিন পর আবার লিখতে বসেছি সাথে অনেক কম সময় নিয়ে লিখেছি তো কোথাও যদি বুঝতে অসুবিধা হয় কমেন্ট করে জানাবেন আমি সেটা ক্লিয়ার করার চেষ্টা করবো। আজকের পোস্ট এই পর্যন্তই, আশা করি সকলেই ভালো থাকবেন। দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে। আল্লাহ হাফেজ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Thank's for visiting me!

X