ট্যারিফ বা শুল্ক কী? জানুন বিস্তারিত


সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই তালিকায় বাংলাদেশ ও ভারতসহ প্রায় ১৮০টি দেশ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই লেখায় আমরা জানবো ট্যারিফ আসলে কী, এটি কত প্রকার এবং কেন এটি লাগানো হয়।

ট্যারিফ কী এবং কোন দেশের ওপর কত শুল্ক? সহজ ভাষায় এখানে পড়ুন


ট্যারিফ (Tariff) কী?

ট্যারিফ হলো এক ধরণের কর (Tax) বা শুল্ক (Duty), যা কোনো দেশের সরকার আমদানি করা বা রপ্তানি করা পণ্যের ওপর আরোপ করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো:

  • দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করা।
  • সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো।
  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা।

ট্যারিফের প্রকারভেদ

১. আমদানি শুল্ক (Import Tariff)

যখন কোনো দেশ বিদেশ থেকে পণ্য বা সেবা আমদানি করে, তখন তার ওপর এই শুল্ক বসানো হয়। এর ফলে বিদেশি পণ্যের দাম বেড়ে যায় এবং দেশীয় পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।

উদাহরণ: বাংলাদেশ যদি বাইরে থেকে আসা বিলাসবহুল গাড়ির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায়, তবে স্থানীয় বাজারে সেগুলোর দাম বাড়বে এবং দেশীয় অটোমোবাইল শিল্প সুবিধা পাবে।

২. রপ্তানি শুল্ক (Export Tariff)

যখন কোনো দেশ থেকে পণ্য বাইরে পাঠানো হয়, তখন সরকার তার ওপর এই শুল্ক বসাতে পারে। মূলত দেশের ভেতরে জরুরি পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে এটি করা হয়।

উদাহরণ: অনেক সময় সংকটের সময় পেঁয়াজ বা চাল রপ্তানিতে সরকার শুল্ক বাড়িয়ে দেয়, যাতে দেশের ভেতরে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৩. নির্দিষ্ট শুল্ক (Specific Tariff)

এটি পণ্যের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। যেমন প্রতি কেজি, প্রতি লিটার বা প্রতি টনের ওপর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা শুল্ক হিসেবে নেওয়া হয়।

উদাহরণ: প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা এক্সাইজ ডিউটি নেওয়া।

৪. অ্যাড ভ্যালোরম শুল্ক (Ad Valorem Tariff)

এটি পণ্যের মোট মূল্যের (Total Value) ওপর শতাংশ হিসেবে আরোপ করা হয়।

উদাহরণ: কোনো পণ্যের ওপর যদি ২০% আমদানি শুল্ক থাকে, তবে ১০০০ টাকার পণ্যে ২০০ টাকা শুল্ক দিতে হবে।

৫. প্রতিরক্ষামূলক (Protective) ট্যারিফ

দেশীয় কোম্পানিগুলোকে বিদেশি প্রতিযোগিতা থেকে বাঁচাতে এই শুল্ক ব্যবহার করা হয়। যেমন চীন থেকে আসা সস্তা স্টিলের ওপর বাংলাদেশ সরকার উচ্চ শুল্ক বসাতে পারে যাতে আমাদের দেশীয় স্টিল মিলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

৬. প্রতিশোধমূলক (Retaliatory) ট্যারিফ

যখন এক দেশ অন্য দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ায়, তখন পাল্টা জবাব হিসেবে দ্বিতীয় দেশটিও প্রথম দেশের পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে।

উদাহরণ: আমেরিকা ও চীনের মধ্যকার “ট্রেড ওয়ার” বা বাণিজ্য যুদ্ধে দুই দেশই একে অপরের পণ্যের ওপর বিলিয়ন ডলারের ট্যারিফ বসিয়েছিল।


বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ট্যারিফ ঘোষণা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Thank's for visiting me!

X