গুরুত্বপূর্ণ ফাইল কি ক্লাউড স্টোরেজে ব্যাকআপ করেন? আপনার যা জানা উচিৎ!


আমাদের অনেকে ফাইল ব্যাকআপ করার জন্য আমরা বিভিন্ন ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস ব্যবহার করে থাকি। এই সব ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করার যেমন আছে সুবিধা। আবার এটা হতে পারে ব্যাক্তিগত বিপদের কারন।

আপনার ডাটা ডিলেট হয়ে যেতে পারে।

কয়েকদিন আগে মেগা থেকে আমার কাছে একটা ইমেইল আসলো। নিচে ইমেইল টা দেখুন একবার।

ইমেইলটি অনেকটা ঠিক এই রকম। “আপনি অনেকদিন যাবত আপনার মেগা অ্যাকাউন্টে লগইন করেন নি। দ্রুত লগইন করুন। আমরা আপনার ডাটা ডিলিট করার অধিকার সংরক্ষণ করি”

এখানে লক্ষ করুন তাদের টার্মস এন্ড কন্ডিশন আপনার ডাটার জন্য অনেক ক্ষতিকর। তাদের টার্মস এন্ড কন্ডিশন অনুযায়ি তারা আপনার ডাটা ক্লিন আপ করে দিতে পারে যদি আপনি দীর্ঘদিন অ্যাকাউন্ট লগইন ইন না করেন।

তাই আপনি যদি ক্লাউড স্টোরেজে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডাটা ব্যাকআপ করেন এবং দীর্ঘদিন অ্যাকাউন্ট লগআউট করা থাকে তবে অতি শীঘ্রই লগ ইন করুন।

এটা আপনার জেনে থাকা উচিৎ যে কোন কোম্পানিই চিরদিন আপনার ব্যাকআপ তাদের সার্ভারে রাখবে না কেননা সার্ভার মেইনটেইন করতে কস্ট আছে। তবে যদি আপনি তাদের সার্ভিস নিয়মিত ব্যবহার করেন তবে তাদের কাছে আপনি সোনার হাস। কারন বর্তমানে যা কিছু আপনার কাছে ফ্রি মনে হয় সেটা আসলে না। এখানে আপনিই হচ্ছেন তাদের প্রডাক্ট। অথবা যদি না টাকা দিয়ে তাদের সাবস্ক্রিপশন কিনে থাকেন।

এছাড়াও বিভিন্ন কারনে আপনার ডাটা লস হতে পারে। যেমন কখনও কখনও ডাটা করাপ্টেড হয়ে যেতে পারে। আপনি হয়তো দেখতে পারতেছেন আপনার ডাটা এত জিবি ক্লাউডে সংরক্ষণ করা আছে কিন্তু ডাউনলোড করে দেখলেন সেটা আর কোন কাজেরই না।

তাই আসুন এথেকে কিভাবে বাচবেন তা জেনে নেওয়া যাক।

কিভাবে বাঁচবেন

প্রথমত ক্লাউড ব্যাকআপ এর মাধ্যম টি পার্মানেন্ট হিসেবে কখনই আপনার ব্যবহার করা উচিৎ নয়। বরং এটাকে টেম্পোরারি হিসেবে ব্যবহার করা উচিৎ।

ক্লাউড ব্যাকআপ = টেম্পোরারি সলুশন: যেমন, ক্লাউড ব্যাকআপ এর উদ্যেশ্য হওয়া উচিৎ এমন; ধরেন আপনার ফোন কিংবা কম্পিউটার হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল (হার্ড ড্রাইভ ক্রাশ করলো) তাহলে যেন আপনি আবার সেগুলো আপনার ডিভাইসে নিতে পারেন। এখানে ইভেনচুয়ালি আপনার ডাটা আপনার কাছেই লোকাল ডিভাইসে থাকবে এবং ক্লাউড স্টোরেজ হবে টেম্পোরারি সলুশন।

মাল্টিপল ব্যাকআপ মাধ্যম ব্যবহার করুন। গুরুত্বপূর্ণ ডাটার মিরোর করুন আলাদা আলাদা প্লার্টফর্মে। এতে আপনার ডাটা কোথাও লস্ট হয়ে গেলেও অন্য স্থান থেকে সেটা পেয়ে যাচ্ছেন। তাই শুধুমাত্র একটি প্লার্টফর্মে নির্ভর করবেন না

Backup করুন Sync নয়: ব্যাকআপ আর Sync এক জিনিস নয়। ব্যাকআপে আপনার ডাটা শুধুমাত্র আপলোড হবে। আপনি যদি আমার এই আর্টিকেলটি দেখে থাকেন তবে দেখবেন এখানে আমি two-way সিঙ্ক এর কথা বলেছিলাম। এখানে two-way এবং mirror-upload টার্মটি ভালোভাবে না বুঝলে সমস্যা। two-way এবং mirror এ আপনি যদি ফোন থেকে কোন ফাইল ডিলেট করে দেন তবে সেটা ক্লাউড থেকেও ডিলেট হয়ে যাবে। বড় কোন ফোল্ডার সিঙ্ক করলে এই বিষয়টা মাথায় রেখেই সিঙ্ক করা উচিৎ।

আপলোড দেওয়া ফাইল ডাউনলোড করে চেক করুন আপনার ফাইল জদি কোন জিপ ফাইল কিংবা এনক্রিপ্রটেড ফাইল হয় তবে আডলোড সম্পন্ন হয়ে গেলে একবার ডাউনলোড দিয়ে পুনরায় চেক করুন। অনেক সময় আপলোড এর সময় ডাটা প্যাকেট লস কিংবা করাপ্ট হয়ে ভালোভাবে আপলোড হয় সম্পুর্ন হয় না। এতে ফাইলটা যদি আর্কাইভ/এনক্রিপ্টেড হয় তবে ডাটা উদ্ধার নাও হতে পারে।

আপনার প্রাইমারি জিমেইল অ্যাকাউন্টে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ব্যাকআপ করুন। যদি আপনি আপনার প্রাইমারি জিমেইল অ্যাকাউন্টে ব্যাকআপ করেন তবে সেটা যেহেতু আপনার ডিভাইসে সবসময় লগ ইন করা থাকবে। তবে এখানেও সমস্যা আছে আর সেটা হলো অ্যাকাউন্ট ব্যান হয়ে যাওয়া। তাই প্রাইমারি অ্যাকাউন্টে বিনিং, অকাম-কুকাম না করাই ভালো।

উপসংহার

এটি একটি সচেতনতামূলক পোস্ট। এই পোস্ট-এ আমি বলছি না যে আপনি ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহার করবেন না। বরং ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহার করার সময় যে আমাদের সকলকে সচেতন থাকতে হবে সেইটা জানানোই উদ্দেশ্য। এবং শুধুমাত্র ক্লাউড সার্ভিস এর উপরে ভরসা না করে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো লোকাল ভাবে ব্যাকআপ করার দিকে উৎসাহিত করা। সকলে ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Thank's for visiting me!

X