গণভোট কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?


গণভোট বা Referendum হলো সরাসরি গণতন্ত্রের একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বা নীতিগত বিষয়ে সাধারণ ভোটাররা সরাসরি তাদের ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট প্রদান করেন। এটি সংসদীয় পদ্ধতির বাইরে জনগণের সরাসরি রায় জানার একটি পদ্ধতি।

গণভোটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

গণভোটের ধারণাটি আধুনিক মনে হলেও এর শিকড় বেশ গভীরে প্রোথিত:

  • প্রাচীন যুগ: প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে নাগরিকরা সরাসরি আইন প্রণয়নে অংশ নিতেন, যা সরাসরি গণতন্ত্রের প্রাথমিক রূপ ছিল।
  • সুইজারল্যান্ড: ১৮৪৮ সাল থেকে সুইজারল্যান্ড আধুনিক গণভোটের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। সেখানে জাতীয় যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনগণের রায় নেওয়া একটি নিয়মিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।
  • ফরাসি বিপ্লব: ১৭৯৩ সালে ফ্রান্সে নতুন সংবিধান গ্রহণের জন্য প্রথম বড় আকারের গণভোট আয়োজন করা হয়।

বিশ্বের উল্লেখযোগ্য কিছু গণভোট

সাল দেশ/অঞ্চল বিষয় ফলাফল
১৯৪৬ ইতালি রাজতন্ত্র বনাম প্রজাতন্ত্র ইতালি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়।
১৯৯৫ কিউবেক (কানাডা) কানাডা থেকে স্বাধীনতা স্বাধীনতার বিপক্ষে রায় আসে।
২০১৬ যুক্তরাজ্য ব্রেক্সিট (EU ত্যাগ) ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পক্ষে রায়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে গণভোট

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনটি উল্লেখযোগ্য গণভোটের উল্লেখ পাওয়া যায়:

  1. ১৯৭৭ সালের গণভোট: রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও কর্মসূচির প্রতি জনগণের আস্থা যাচাই।
  2. ১৯৮৫ সালের গণভোট: এইচ এম এরশাদের শাসনের বৈধতা যাচাই।
  3. ১৯৯১ সালের গণভোট: এটি সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় ফিরে আসে।

নোট: ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে গণভোটের বিধানটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

গণভোটের গুরুত্ব

গণভোট মূলত জনগণের সরাসরি ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। তবে এর সমালোচনাও রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, জটিল কোনো রাজনৈতিক বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এই দুটি বিকল্পে সীমাবদ্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তা সত্ত্বেও, জাতীয় ঐকমত্য তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি অনন্য পদ্ধতি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Thank's for visiting me!

X